বাংলাদেশের কাছে ধর্মশালায় হারের পর দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে গত বুধবার স্বাগতিক ভারতের কাছে ৮ উইকেটে বিধ্বস্ত হয় আফগানিস্তান। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবিরা একই মাঠে আরেকবার অগ্নিপরীক্ষায়। আজ তাদের সামনে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। আফগানরা প্রথম ও ইংল্যান্ড দ্বিতীয় জয়ের খোঁজে নামছে। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা আড়াইটায়। 

বিশ্বকাপে দুবারের দেখায় প্রতিবারই ইংলিশদের কাছে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে যায় আফগানরা। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলা আফগানিস্তানকে ডিএলএস মেথডে ৯ উইকেটে হারায় ইংলিশরা। ২০১৯ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পথে আফগানদের ১৫০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারায় ইংলিশরা। 

টি২০-তে তিনবারের দেখায় কখনো জেতা হয়নি আফগানদের। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচবারের দেখায় ইংল্যান্ড ৫-০-তে লিড ধরে রেখেছে। 

চলতি আসরে প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে আফগানিস্তান। কাজেই তাদের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ অবস্থায় তারা পড়েছে বিস্ফোরক ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে গড়া ইংল্যান্ড দলের সামনে। এরপর তাদের ম্যাচ রয়েছে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। কাজেই সামনে পথ আরো কঠিন। 

সম্প্রতি আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের ইংলিশ কোচ জোনাথন ট্রট আশাবাদী, বিশ্বকাপে আজ ভালো করে দেশের বিপর্যস্ত মানুষের জন্য ‘আনন্দ ও সুখ’ বয়ে আনবেন রশিদ ও নবিরা। 

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ট্রট বলেন, ‘আগামীকালের ম্যাচ নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। আমি চাইব ম্যাচে যেন লড়াই হয়। ইংলিশ ড্রেসিংরুমে আমাদের খেলোয়াড়দের সম্মান করা হয়, আমরাও তাদের সম্মান করি। ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলার একটা সুযোগ আমাদের সামনে এবং আমরা সেটি নিশ্চিতভাবেই করতে চাইব।’

অবশ্য বিশ্বকাপের মঞ্চ মানেই আফগানিস্তানের জন্য বিষাদময় ইতিহাস। ওয়ানডের বিশ্বমঞ্চে ১৭ ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জিতেছে তারা, হার ১৬টিতে। তারা শুধু হারাতে পেরেছে স্কটল্যান্ডকে। ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের ডুনেডিনে স্কটিশদের ১ উইকেটে হারায় আফগানরা। এরপর বিশ্বকাপের টানা ১৪টি ম্যাচে হেরেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। 

গত বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে টানা ৯টি ম্যাচ হেরে যায় আফগানিস্তান। গতবার যেখানে শেষ করে, এবার সেখান থেকেই শুরু। ধর্মশালায় বাংলাদেশের কাছে ও দিল্লিতে ভারতের কাছে হেরেছে হাশমতউল্লাহ শহিদির দল। আজ তৃতীয় ম্যাচে তারা জিততে মরিয়া হয়ে খেলবে। 

অন্যদিকে, ইংলিশরাও তিন পয়েন্ট তুলে নিতে চাইবে। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে চাপে পড়ে যায় জস বাটলারের দল। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরেকটি ম্যাচে হার তাদের সেমিফাইনালের পথ কঠিন করে তুলতে পারে। 

২১ অক্টোবর মুম্বাইয়ে ইংল্যান্ড খেলবে উড়তে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এরই মধ্যে শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রোটিয়ারা। কাজেই এমন দাপট দেখানো একটি দলের বিপক্ষে নামার আগে জয়রথে থাকতে চাইবে ইংলিশরা। 

কাগজে-কলমে আজ ইংল্যান্ডই ফেভারিট। তবু বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো দলকেই যে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই, সেটি ইংলিশরা ভালো করেই জানে। ২০১১ সালে আয়ারল্যান্ডের কাছে, ২০১৫ সালে বাংলাদেশের কাছে হারের স্মৃতি নিশ্চয়ই তারা ভুলে যায়নি। আফগানিস্তান দলেও অঘটন ঘটানোর মতো খেলোয়াড়ের অভাব নেই। রশিদ খান, মুজিব-উর-রহমানরা বিশ্বমানের স্পিনার। ব্যাটাররা ভালো স্কোর গড়ে দিতে পারলে বোলাররা প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলার সামর্থ্য রাখেন।