সিমেন্ট খাতের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে মুনাফায় ফিরেছে। আগের হিসাব বছরে লোকসানে ছিল কোম্পানিটি। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের পর্ষদ।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ হিসাব বছরে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ১৩ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ১৩ পয়সা লোকসান হয়েছিল কোম্পানিটির। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৭ টাকা ২০ পয়সায়। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ৮ মে সকাল সাড়ে ১০টায় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২ এপ্রিল। 

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ১৩ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৮ টাকা ৪১ পয়সা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৬০ টাকা ৭ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৬৬ টাকা ৬০ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানির ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৪১ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল টাকা ৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৬৬ টাকা ৬০ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৬৯ টাকা ৬২ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। আগের হিসাব বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। 

১৯৮৯ সালে দেশের পুঁজিবাজারে আসা হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৫৬ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২৮২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৫ কোটি ৬৫ লাখ ৩ হাজার ৫৯০। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৬০ দশমিক ৬৭ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৬ দশমিক শূন্য ৫, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।