ডলারের বিনিময় হার পতনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, গতকাল স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স শূন্য দশমিক দুই শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৯৩ ডলার ৬৪ সেন্টে পৌঁছেছে। যেখানে মার্কিন গোল্ড ফিউচারে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২ ডলারে।

প্রতিবেদন বলছে, ডলারের বিনিময় হার কমার পর সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিগত পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। তথ্য বলছেন, মঙ্গলবার ডলারের সূচক কমেছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতার কাছে মূল্যবান ধাতবটি (স্বর্ণ) আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

মুম্বাইভিত্তিক বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেডিয়া কমোডিটিসের পরিচালক অজয় কেডিয়া বলেন, ‘ডলারের মান কমার কারণে স্বর্ণের দাম বাড়ছে। এ বছরের বাকি সময় পর্যন্ত সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী আর্থিক নীতির তথ্য ও ফেডের বৈঠকের ওপর নজর রাখা হবে। ততক্ষণে এর দাম ১ হাজার ৯৭০ ডলার থেকে ২ হাজার ২০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।’

ডালাস ফেডের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, টেক্সাসে উৎপাদন কার্যকলাপ চলতি মাসে সংকুচিত হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকটিকে এটি স্পষ্ট করেছে।

মার্কেটগুলো ২-৩ মে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে ফেডের সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ। উচ্চ সুদের হার স্বর্ণকে আকর্ষণীয় করে তুলছে। গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে বিনিয়োগকারীরা এখন এ প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে করপোরেট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এয়ারগাইডের পরিচালক মাইকেল ল্যাংফোর্ড বলেন, ‘এ প্রতিবেদনগুলোয় মার্কিন ডলারের মান কমার সম্ভাবনা বেশি। স্বল্পমেয়াদে যা স্বর্ণের দামকে আরো বাড়িয়ে তুলবে।’

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঋণের সীমা অতিক্রম করতে পারে। এ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের কিছু ট্রেজারি বিল এড়াতে বাধ্য করেছে। কেননা তারা নগদ ক্যাশ সঞ্চয়ের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা খুঁজছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ। খুচরা বাজারে দেশটিতে স্বর্ণ কেনাকাটার খরচ জানুয়ারি-মার্চে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে রৌপ্যের দাম আউন্সপ্রতি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ২৫ ডলার ১২ আউন্সে পৌঁছেছে। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ১ হাজার ৫৩৫ ডলার ১৪ সেন্ট থেকে সামান্য পরিবর্তন হয়েছে।

পাশাপাশি প্লাটিনামের দাম আউন্স প্রতি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৫ ডলার ৪৮ সেন্টে পৌঁছেছে।