দিনাজপুরের হিলিতে আবারো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। হু হু করে বাড়ছে পণ্যটির দাম। মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে আমদানীকৃত ও দেশী পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৭-১৩ টাকা বেড়েছে।
বন্দরসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানির অনুমোদন (আইপি) না থাকায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বন্ধ রয়েছে পেঁয়াজ আমদানি। এ কারণেই পণ্যটির বাজার ঊর্ধ্বমুখী। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে আইপি দিতে সম্মত হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আমদানি চালু হতে পারে। আমদানি চালু হলেই দাম কমে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে হিলির বাজার ঘুরে দেখা যায়, তিনদিন আগেও প্রতি কেজি আমদানীকৃত পেঁয়াজ ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশী পেঁয়াজ ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৫২-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দামের এমন ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং ও টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রির দাবি জানিয়েছেন তারা।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আশরাফুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান বলেন, এক সপ্তাহ আগে যে ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে কিনেছি, সেই পেঁয়াজ এখন কিনতে হচ্ছে ৪৫ টাকায়। দেশী পেঁয়াজের দাম ৫৫ টাকায় উঠেছে। এ দামে পেঁয়াজ কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা খুচরা ব্যবসায়ী শেরেগুল ইসলাম বলেন, তিনদিন আগেও পেঁয়াজ কিনেছি ৩৫-৩০ টাকা কেজি দরে। এখন ভারতীয় পেঁয়াজের দাম চাচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি। দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৫ টাকায়। এভাবে দাম বাড়লে আমরা ব্যবসা করতে পারব না।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফিরোজ হোসেন ও মনিরুল ইসলাম বলেন, আইপি শেষ হয়ে যাওয়ায় এক মাসের বেশি সময় ধরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ সরবরাহ কমে গেছে। বাজারে দেশী পেঁয়াজের সরবরাহও নেই তেমন একটা। এসব কারণে দাম বাড়ছে।
তিনি বলেন, মোকামে আমরা কয়েকদিন আগেও প্রতি মণ দেশী পেঁয়াজ কিনেছি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। সেই পেঁয়াজ এখন ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোকামে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণে বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। ফলে বিক্রিও করছি বেশি দামে।










