ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের শুরু থেকেই ইউরোপ নানাভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় মে মাসে ইউরোপ রাশিয়া থেকে দুই-তৃতীয়াংশ তেল আমদানি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিকল্প উৎস থেকে ইউরোপের গ্যাস সংগ্রহের প্রচেষ্টা চলছে। অয়েল প্রাইসের এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি ৩০ শতাংশ বাড়াতে যাচ্ছে আজারবাইজান।

আজারবাইজানের জ্বালানিমন্ত্রী পারভেজ শাহবাজভ টুইটারে জানান, আজারবাইজান চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউরোপে ৭৩০ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি করেছে। ২০২২ সালের শেষ নাগাদ ইউরোপে রফতানীকৃত গ্যাসের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ১ হাজার ২০০ কোটি ঘনমিটার। ২০২১ সালের তুলনায় যা ৩১ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তেল, গ্যাস রফতানিতে যেকোনো দেশের প্রস্তাবিত মূল্য তোয়াক্কা না করার ঘোষণা দিয়েছেন।

রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আজারবাইজান একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে বলা হয়, আজারবাইজান ইউরোপে গত সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ গ্যাস রফতানি করবে। ২০২৭ নাগাদ বার্ষিক গ্যাস রফতানি দুই হাজার কোটি ঘনমিটার ছাড়াবে।

আজারবাইজান, জর্জিয়া, তুরস্ক ও গ্রিসের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া দক্ষিণ গ্যাস করিডোরের সীমানা বৃদ্ধির ব্যাপারেও চুক্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রাশিয়া বিনা প্ররোচণায় ইউক্রেনে আক্রমণ করার শাস্তি হিসেবে ইউরোপ রাশিয়া থেকে অধিকাংশ তেল আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাশিয়া ইউরোপে তেল রফতানির আয় দিয়েই ইউক্রেন যুদ্ধ ব্যয় মেটায় বলে মনে করে ইউরোপের নেতারা।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি বন্ধ করার কথা অনেক দিন থেকে বলে এলেও রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ২০২১ সালে রাশিয়া থেকে ১৫ হাজার ৫০০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস আমদানি করে ইউরোপ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ।

রাশিয়া এরই মধ্যে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। তারা এর মাধ্যমে ইউরোপকে গ্যাস মজুদকরণ এবং গ্যাস-চাহিদা-হ্রাস পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা দিতে চাচ্ছে। আগামীতে দেখার বিষয় বিকল্প দেশগুলো ইউরোপের গ্যাস আমদানির চাহিদা পূরণ করতে পারে কিনা। নাকি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে গিয়ে ইউরোপই নতুন গ্যাস সংকটে জড়িয়ে পড়ে।