আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রোগ্রেসিভ অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (সিপিটিপিপি) নামের চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য হিসেবে নাম লেখাবে ইউরোপের এ দেশ। খবর জাপান টাইমস।

চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে আগ্রহী অন্যান্য দেশের সঙ্গে রয়েছে চীনও। বছর তিনেক হলো তারা আবেদনও করেছে। তাই যুক্তরাজ্যের পর সব মনোযোগ এখন চীনের দিকেই। বৈঠকটি ১৫-১৬ জুলাই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহৎ ও প্রগতিশীল সিপিটিপিপি চুক্তিটি সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে স্বাক্ষরিত হবে।

সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও রফতানিবিষয়ক মন্ত্রী ড্যামিয়েন ও’কনর এক বিবৃতিতে বলেন, ‘‌সিপিটিপিপিতে যুক্তরাজ্যের সদস্যপদের পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কিউই রফতানিকারকদের বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতিতে প্রবেশের অভূতপূর্ব সুযোগ প্রদান করে।’

একটা সময় এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিপরীতে ভারসাম্য রক্ষার উপায় হিসেবে দেখা হতো সিপিটিপিপিকে। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৭ সালে চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করে নেন। তার এ পদক্ষেপের ফলে উদ্যোগটির আকার ছোট হয় এবং একমাত্র প্রভাবশালী অর্থনীতি হিসেবে রয়ে যায় জাপান। এ অবস্থায় টোকিও ক্রমাগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তিতে ফিরে আসার জন্য চাপ দিচ্ছে।

সিপিটিপিপি বিদ্যমান সদস্যদের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, কানাডা, চিলি, জাপান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্যানুসারে, যুক্তরাজ্য যোগ দেয়ার পর ৫০ কোটি জনসংখ্যার ব্লকটির মূল্য বৈশ্বিক জিডিপির ১৫ শতাংশ হবে।