দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আবারো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। মাত্র একদিনের ব্যবধানে বন্দরে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা করে বেড়েছে। ভারতের বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে বলে দাবি আমদানিকারকদের।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত আছে। তবে আগের তুলনায় আমদানির পরিমাণ কমেছে। বন্দর দিয়ে আগে নাসিক ও ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে শুধু ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। বুধবার বন্দরে আমদানীকৃত ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ পাইকারিতে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার তা বেড়ে ৩৫ টাকায় পৌঁছে। গতকাল একই দামে এসব পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম ও শাহাবুল হোসেন বলেন, পেঁয়াজ আমদানি কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহ থেকেই বাজার বাড়তির দিকে। আজ যে দামে বন্দর থেকে পেঁয়াজ ক্রয় করে মোকামে পাঠাচ্ছি পরদিন সেই দামে আর পেঁয়াজ কিনতে পারছি না। প্রতি দিনই কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা করে দাম বাড়ছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক ও আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, বরাবরের মতো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত আছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যাসহ বৈরী আবহাওয়ার কারণে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আগে যেসব অঞ্চল থেকে পেঁয়াজ আসত তার মধ্যে কিছু অঞ্চল থেকে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এটি দেশীয় বাজারে প্রভাব ফেলেছে। শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে বেশ কিছুদিন বন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে। এ কারণে দেশের মোকামগুলোতে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি। তবে পূজার বন্ধ শেষে বন্দর দিয়ে আগের মতো বাড়তি পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে দাম আবারো কমবে। তিনি আরো বলেন, ভারতের বেশকিছু অঞ্চলে এরই মধ্যে নতুন জাতের পেঁয়াজ তোলা শুরু হয়েছে। আশা করছি, আগামী কিছুদিনের মধ্যে এসব পেঁয়াজ আমদানি শুরু হবে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। আগে বন্দর দিয়ে ২৫-৩০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো। বর্তমানে আমদানি কমে ৫-১০ ট্রাকে নেমেছে। গত ২৫-৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ৭১টি ট্রাকে দুই হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। পেঁয়াজ কাঁচামাল ও পচনশীল দ্রব্য। তাই পণ্যটি দ্রুত খালাস করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।