২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এ বাজেটকে ইতিবাচক, প্রগতিশীল এবং ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ সংগঠনটি। তবে দীর্ঘমেয়াদে কর হ্রাসের রোডম্যাপ না থাকায় ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফিকি।
সংগঠনটি গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে ইতিবাচক পদক্ষেপের পাশাপাশি বেশকিছু উদ্বেগের ক্ষেত্র রয়েছে, যা আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও করপোরেট করের হার অপরিবর্তিত রয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি কর হ্রাসের রোডম্যাপ না থাকায় আঞ্চলিক প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগে (এফডিআই) প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে। এছাড়া কোনো অন্তর্বর্তী সময় বা মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই বৃহৎ ও বহুজাতিক করদাতাদের জন্য ই-ভ্যাট সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা মারাত্মক ব্যবহারিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ হার বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করার ফলে দক্ষ বিদেশী পেশাদারদের নিয়োগের খরচ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে এফআইসিসিআই। সংগঠনটি বলছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির এ সময়ে খরচ কর্তনের শর্তাবলির সুনির্দিষ্ট স্পষ্টীকরণের অভাবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কমপ্লায়েন্স খরচ বেড়ে যেতে পারে। খুচরা পর্যায়ে প্রস্তাবিত দশমিক ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আদায়ের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন।
রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাকে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী উল্লেখ করে ফিকি বলছে, প্রস্তাবিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূর্ববর্তী অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৩-৪২ শতাংশ পর্যন্ত একটি অবাস্তব রাজস্ব প্রবৃদ্ধির দাবি রাখে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ লক্ষ্যমাত্রাটি বাস্তবায়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যয় ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার মধ্যকার এ বিশাল ব্যবধান কমাতে রাজস্ব আহরণ জোরদার, দক্ষ সরকারি ব্যয় নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।









