চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জাপানের অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় কম প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। পাশাপাশি জুলাইয়ে মজুরিও কমেছে দেশটিতে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশার আলো ক্ষীণ হয়েছে। খবর রয়টার্স।

এপ্রিল-জুনের সংশোধিত জিডিপি তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে মূলধন ও ব্যক্তিগত ব্যয় উভয়ই কমেছে, যা জাপানের অর্থনীতির ভঙ্গুরতা তুলে ধরেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল প্রবৃদ্ধির কারণে বিষয়টি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য করা প্রকৃত মজুরি টানা ১৬তম মাসের জন্য কমেছে। দেশটির সাধারণ পরিবারগুলো এখনো ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনুভব করছে, যা ভোক্তার পক্ষে অনুকূল নয়। 

নরিনচুকিন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ তাকেশি মিনামি জানান, চীনে দুর্বল রফতানি জাপানি নির্মাতাদের বিনিয়োগের ব্যাপারে সতর্ক করে তুলতে পারে। তবে আশা করা হচ্ছে পরিষেবা খাতের ফার্মগুলো ঘুরে দাঁড়াবে, যদিও মন্থর খরচ তাদের অর্থ ব্যয় করতে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

সংশোধিত তথ্যে দেখা যায়, জাপানের অর্থনীতি এপ্রিল-জুনে বার্ষিক ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বেড়েছে। প্রাথমিক পূর্বাভাস করা হয়েছিল ৬ শতাংশ, যা বাজার পূর্বাভাসের চেয়ে কম। এ সংশোধনের মূল কারণ ছিল মূলধন ব্যয় ১ শতাংশ কমে যাওয়া। ব্যাংক অব জাপানের ধারণা ছিল শক্তিশালী করপোরেট ব্যয় মহামারী-পরবর্তী অর্থনীতিকে সমর্থন করবে। বেসরকারি খরচ জাপানের অর্থনীতির অর্ধেকেরও বেশি, যা এপ্রিল-জুন সময়কালে দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। 

রফতানি শক্তিশালী থাকলেও তা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ১ দশমিক ৮ শতাংশ অবদান রেখেছে। তবে জুলাইয়ে রফতানি ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে, যা টানা অষ্টম মাসের পতনকে চিহ্নিত করছে।