কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ্ব একেবারেই স্থবির হয়ে পড়েছিল। এর পর গত বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো জটিল করে তোলে। যুক্ত হয় মূল্যস্ফীতি ও সরবরাহ চেইনের সমস্যা। এসব মোকাবেলায় বাড়াতে থাকে ব্যাংকের সুদ হার। সব মিলিয়ে চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থির থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পূ্র্বাভাসের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।

দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, ২০২৩ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বার্ষিক ২ শতাংশ হারে বেড়েছে। যেখানে ওই প্রান্তিকে ১ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। ভোক্তা পর্যায়ে ব্যয় বাড়ায় এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মূল সুদহার ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে। যা বর্তমানে ৫ শতাংশের বেশি এবং সামনে এ হার আরো বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। তবে সুদ হার আরো বাড়লে তা প্রবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দেবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। এর ফলে গ্রাহক ব্যয় ও ব্যবসা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের কারণে সার্বিক মূল্যস্ফীতির চিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। গত বারো মাসের হিসেবে মে পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে খরচ মাত্র ৪ শতাংশ বেড়েছে। যা দুই বছরের তুলনায় খুবই মন্থর। এতে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও অন্যান্য পণ্যে বেড়েছে।

চলতি সপ্তাহে ইউরোপে আয়োজিত এক সম্মেলনে ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান জেরোম পাওয়েল জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা ততটা কার্যকর নয়।