অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাসমতী নয়, এমন চাল রফতানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত। যার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয়ও। এসব দেশে চালের তীব্র সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, বৈশ্বিক চাল রফতানির চালানের প্রায় অর্ধেকই আসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত থেকে। ফলে দেশটির রফতানি নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে বৈশ্বিক খাদ্যবাজারে আরো মূল্যস্ফীতি ঘটতে পারে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিচালকের দপ্তর থেকে আসা এক বিজ্ঞপ্তিতে বাসমতী নয়, এমন চাল রফতানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার বলেছে, এক মাসের মধ্যে খুচরা চালের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমের ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় নন-বাসমতী সাদা চালের রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্বের চাল রফতানির ৪০ শতাংশেরও বেশি ভারতের দখলে। গত বছর ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ এবং খারাপ আবহাওয়ায় পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত সমস্যার মুখে পড়ে। এর মধ্যে ভারতের চাল রফতানি বন্ধের ঘোষণায় খাদ্যশস্যটির দাম আরো বেড়ে যাবে এবং বাজারে অনান্য খাদ্যশস্যের ওপর চাপ পড়বে।

রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিভি কৃষ্ণা রাও সাংবাদিকদের বলেছেন, ‌রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে ইউক্রেনের গমের বাজারে যে প্রভাব পড়েছিল, ভারতের এ সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বব্যাপী চালের বাজারে তার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব পড়বে।

৩০০ কোটিরও বেশি মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত, যা চাল বা ধান থেকে আসে। প্রায় ৯০ শতাংশ পানিনির্ভর ফসলটি এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি উৎপন্ন হয়। এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার তারতম্য তথা অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টির মত সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যা ফসল উৎপাদন ব্যাহত করছে।

ভারতের খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এক বছরে দেশটিতে চালের দাম ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। শুধু গত মাসেই চালের দাম বেড়েছে ৩ শতাংশ। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে ভারি বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় চালের আন্তর্জাতিক বিক্রি বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। এসব কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্থিতিশীল ও মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে বাসমতী ছাড়া অন্যসব চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার।

ভারতের এ পদক্ষেপের পর বিশ্ববাজারে চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে চাল রফতানিতে দাম বাড়ানো হয়েছে। চাল আমদানি-রফতানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাজারে নতুন কোনো পরিবর্তন না এলে সামনের দিনগুলোয় চালের দাম আরো বাড়তে পারে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু দেশে প্রদত্ত অনুমতি এবং তাদের সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে রফতানির অনুমতি দেয়া হবে।