অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে ওপেক। এ বছর প্রথমবারের মতো পূর্বাভাস বাড়ানো হলো। চীন কভিড-১৯-সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ শিথিল করায় চাহিদা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এদিকে চাহিদা বাড়লেও চলতি বছর বৈশ্বিক সরবরাহ থাকবে সংকুচিত। কারণ রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় উত্তোলন কমিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাছাড়া নন-ওপেক দেশগুলো থেকেও সরবরাহ কমার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোটটি মঙ্গলবার মাসভিত্তিক এক প্রতিবেদনে জানায়, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক ২৩ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল বা ২ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বাড়বে, গত মাসের পূর্বাভাসের চেয়ে যা দৈনিক এক লাখ ব্যারেল বেশি।
ওপেক গত দুই মাস জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস স্থিতিশীল রেখেছিল। এর আগের মাসগুলোয় অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় অব্যাহত পূর্বাভাস কমানো হয়েছিল।
গত বছরের ডিসেম্বরের পর থেকে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল। প্রতি ব্যারেলের দাম ৮৬ ডলার বা তার নিচে রয়েছে। সংকুচিত সরবরাহের পাশাপাশি চাহিদা বাড়লে আগামী মাসগুলোয় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যাপক বাড়তে পারে।
মাসভিত্তিক প্রতিবেদনটিতে ওপেক জানায়, বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ চীনের অর্থনীতি কভিড-১৯-এর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় দেশটির যেমন জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে, তেমনি পুরো বিশ্বের চাহিদার রেখচিত্র ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠবে। তবে দেশটির অর্থনীতি কত দ্রুত বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
ওপেকের প্রত্যাশা, ২০২৩ সালে চীনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক ৫ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল করে বাড়বে। এর আগের মাসে ৫ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল করে বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। গত বছর দেশটিতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কমে দিয়েছিল। কভিডসংক্রান্ত বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় চাহিদা আবার পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।
চাহিদা বাড়লেও এ বছর নানামুখী চ্যালেঞ্জে থাকবে জ্বালানি তেলের বাজার। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, চীনে মহামারী সৃষ্ট স্থানীয় চ্যালেঞ্জ ও দেশটির রিয়েল এস্টেট খাতে উদ্বেগ জ্বালানি খাতে বড় সমস্যা বয়ে আনতে পারে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জানুয়ারিতে ওপেকের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে গত বছরের নভেম্বরে উত্তোলন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় জোটটি। প্রতি মাসে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। এখন পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তেই অটল জোটের সদস্যরা। গত মাসে ওপেকের উত্তোলন প্রতিদিন ৪৯ হাজার ব্যারেল করে কমেছে। দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে।
জোটের বাইরের দেশগুলো থেকে চলতি বছর সরবরাহ কমবে বলেও জানিয়েছে ওপেক। গত মাসে দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেল করে সরবরাহের পূর্বাভাস দিলেও এ মাসে তা কমিয়ে ১৪ লাখ ব্যারেল ধরা হয়েছে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ অনেক বেশি কমার আশঙ্কা রয়েছে।
রাশিয়া গত সপ্তাহে জানিয়েছে আগামী মাসে দেশটি দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমাবে। পশ্চিমা দেশগুলো পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর প্রাইস ক্যাপ ঘোষণা করার পরই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ওপেক মনে করছে, চলতি বছর রাশিয়ার জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক নয় লাখ ব্যারেল করে কমতে পারে।










