চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করবে চীন। কভিডজনিত কারণে আরোপ করা বিধিনিষেধ তুলে নেয়া দেশটিতে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেইজিং রেকর্ড জ্বালানি তেল আমদানি করবে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। ওপেক প্লাস ও রাশিয়ার তেল উত্তোলন কমানোর ঘোষণার মধ্যে চীনের চাহিদা ব্যাপক আকারে বাড়ায় তা বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন তারা। খবর রয়টার্স।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন অপরিশোধিত তেল আমদানি দিনে ৫-১০ লাখ ব্যারেল বাড়াতে পারে। এমনকি দিনে লাখ ব্যারেলও ছাড়াতে পারে বলে জানিয়েছে বৈশ্বিক এনার্জি গবেষণা ও পরামর্শক ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জি। ভ্রমণ বিধিনিষেধ শিথিল করায় দেশটিতে প্রচুর পরিমাণ জেট ফুয়েল ও গ্যাসোলিনের চাহিদা বেড়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।
এনার্জি অ্যাসপেক্টসের বিশ্লেষক সান জিয়ানান বলেন, ‘দেশটিতে গ্যাসোলিন ও জেট ফুয়েলের চাহিদা যথাক্রমে ৫০ ও ৩০ শতাংশ বাড়বে। চলতি বছরে শেষে এই চাহিদা কভিড-পূর্ববর্তী সময়ের কাছাকাছি চলে যাবে।’
ফ্যাক্টস গ্লোবাল এনার্জি লিমিটেডের বিশ্লেষক মিয়া জেং বলেন, ‘তবে দেশটিতে ডিজেলের চাহিদা ধীরগতিতে বাড়বে। ডিজেলের ব্যবহার হয় এমন শিল্পগুলো করোনার প্রভাব কাটিয়ে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করতে আরো সময় লাগতে পারে। সে কারণেই ডিজেলের চাহিদা কিছুটা কম গতিতে বাড়বে।’
প্রসঙ্গত, চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ। নভেল কারোনাভাইরাসসংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ শিথিল করায় দেশটির অর্থনীতিতে দ্রুত প্রসার ঘটছে। শিল্পোৎপাদন যেমন বাড়ছে, তেমনি স্বাভাবিক হচ্ছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক যাতায়াত। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুযোগে দেশটির জ্বালানি তেল পরিশোধন খাত প্রক্রিয়াকরণের হার ব্যাপক মাত্রায় বাড়িয়েছে। ফলে আগামী মাসগুলোয় চীন অনেক বেশি পরিমাণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে যাচ্ছে।
চীন এরই মধ্যে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার পরিমাণ লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক মাসগুলোয় সৌদি আরবকে হটিয়ে চীনের শীর্ষ জ্বালানি তেল সরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠেছে রাশিয়া। এর মূল কারণ রাশিয়া চীনের প্রচলিত বাজারের চেয়ে অনেক কম দামে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি করছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভের দেয়া তথ্যমতে, জানুয়ারিতে চীন রাশিয়া থেকে দৈনিক লাখ হাজার ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। ডিসেম্বর আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ১৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল। এ মাসেও চীনের শীর্ষ সরবরাহকারী ছিল রাশিয়া। এ সময় সৌদি আরব থেকে আমদানি করা হয়েছে দৈনিক ১৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী মাসগুলোয় ব্যাপক হারে চাহিদা বাড়লে সৌদি আরবের পরিবর্তে রাশিয়াকেই প্রাধান্য দেবে চীন। একই কথা প্রযোজ্য ভারতের পরিশোধন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও।










