জাপানের প্রধান প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদনকারী অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের কারণে উৎপাদন কমেছে। ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে পণ্যটির। এরই মধ্যে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে জাপানি রাবারের। গতকাল পণ্যটির দাম বেড়ে গত ১৩ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ওসাকা এক্সচেঞ্জে (ওএসই) ফেব্রুয়ারির সরবরাহ চুক্তিতে রাবারের দাম আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ২ ইয়েন বা দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি কেজির মূল্য স্থির হয়েছে ৩৭৪ ইয়েন (২ ডলার ৫৯ সেন্ট)।
দিনব্যাপী লেনদেনের এক পর্যায়ে এখানে প্রতি কেজি রাবারের মূল্য দাঁড়ায় ৩৭৫ দশমিক ৫ ইয়েনে, যা ২০১১ সালের ১ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জ (এসএইচএফই) জানুয়ারিতে সরবরাহের চুক্তিতে জাপানি রাবারের দাম আগের দিনের তুলনায় টনে ৬৫ ইউয়ান বা দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য পৌঁছেছে ১৬ হাজার ৭৪০ ইউয়ান (২ হাজার ৩৪৭ ডলার ৬৬ সেন্ট)।
চাইনিজ ফাইন্যান্সিয়াল ইনফরমেশন সাইট হেক্সুন ফিউচারসের একটি নোট অনুযায়ী, থাইল্যান্ড ও ইউনান প্রদেশের প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় বৃষ্টিপাতের কারণে রাবার উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ডের অনেক অঞ্চলে বন্যা হয়েছে, যা রাবার সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে ঊৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এতে সরবরাহ আরো কমে যাবে।
প্রাকৃতিক রাবারের শীর্ষ ঊৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি থাইল্যান্ড। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা আগামী ১-৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সতর্কতা দিয়েছে। এতে বন্যা অথবা জলস্রোত তৈরি হতে পারে। ফলে প্রভাবিত হতে পারে দেশটির প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন।
থাইল্যান্ডের রফতানিযোগ্য স্মোকড রাবার শিট (আরএসএস৩) ও ব্লক রাবারের দাম যথাক্রমে ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ও দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ৬ বাথ (২ ডলার ৭৫ সেন্ট) ও ৬৭ দশমিক ৫৭ বাথে (১ ডলার ৯৯ সেন্টে) দাঁড়িয়েছে।
চীনের পণ্যবাজারভিত্তিক ডাটা প্রদানকারী সংস্থা বিজনেস কমিউনিটি জানায়, বিশ্ব অটোমোবাইল ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। এতে টায়ার শিল্প একটি স্থিতিশীল ও ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রেখেছে। টায়ারের উৎপাদন বাড়তে থাকায় প্রাকৃতিক রাবারের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
এদিকে প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদনে উল্লম্ফন দেখা গেলেও চাহিদার তুলনায় তীব্র সরবরাহ ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। চাহিদার তুলনায় দেশটিতে প্রাকৃতিক রাবারের উৎপাদন ৫৫ লাখ টন কম হয়েছে। সম্প্রতি অল ইন্ডিয়া রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শশী সিং (এআইআরআইএ) এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ভারতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮৩ লাখ ৯০ হাজার টন প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টনে পৌঁছেছে। সে হিসেবে ভারতে উৎপাদন বাড়লেও ব্যবহার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় রাবারের জোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরো জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারতে প্রাকৃতিক রাবারের চাহিদা ছিল ১ কোটি ৩৪ লাখ টন। বর্তমানে তা বেড়ে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার টনে পৌঁছেছে। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি রয়ে গেছে ৫৫ লাখ টন।










