জুনে নিম্নমুখী যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন সূচক। নেমে এসেছে কভিড-১৯ মহামারীর শুরু হওয়ার পর্যায়ে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রভাব পড়েছে ফেডের সুদহার বাড়ানোর। তবে কারখানা মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতির দিকে। এমনটাই উঠে এসেছে সম্প্রতি প্রকাশিত ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টের (আইএসএম) পরিসংখ্যানে। খবর রয়টার্স।
কারখানা কার্যক্রম কমে যাওয়ায় কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটছে। আইএসএম ম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেস সার্ভে কমিটির চেয়ারম্যান টিমোথি ফিয়োরে জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী মাসগুলোর তুলনায় বর্তমানে চর্চাটি অধিক মাত্রায় হচ্ছে। আইএসএম জরিপে নন-ফার্ম বেতন, বেকারত্ব সুবিধার জন্য আবেদন ও আবাসন খাতের উপাত্তই প্রমাণ করে মার্কিন অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নেতিবাচক দিকে ঝুঁকে রয়েছে। বেড়ে রয়েছে নিম্নমুখীনতার ঝুঁকি। বিশেষ করে ২০২২ সালের মার্চে ফেডারেল রিজার্ভ থেকে সুদহার বাড়ানোর পর থেকেই ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা খরচের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। সময়টিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪০ বছরের বেশি সময় পরে মুদ্রানীতিতে সংকোচনের প্রচারণা শুরু করে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের ডেপুটি চিফ অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু হান্টার দাবি করেছেন, আইএসএমের জরিপই প্রমাণ করে মন্দা প্রান্তিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে মূল পণ্যের দাম দ্রুত কমতে শুরু করবে। আইএসএম ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআই গত মাসে ৪৬-এ নেমে এসেছে, যা ২০২০ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন। সে সময় পিএমআই ছিল ৪৬ দশমিক ৯। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের ওপরে থাকলে কারখানার কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও নিচে থাকলে সংকোচন বোঝায়। নতুন কার্যাদেশ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, সরবরাহের সময় ও স্টক লেনদেন পর্যালোচনার মাধ্যমে জরিপটি পরিচালনা করা হয়।
রয়টার্সের অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, পিএমআই খুব জোর বেড়ে ৪৭ পয়েন্টে দাঁড়াতে পারে। উৎপাদন খাত যুক্তরাষ্ট্রের মোট অর্থনীতির ১১ দশমিক ১ শতাংশ। অথচ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তা ৫ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে পরিবহন সরঞ্জামাদির মতো পণ্যের চাহিদা এখনো বেশ শক্তিশালী। দেশটির বৃহৎ ছয়টি"শিল্পের মধ্যে পরিবহন সরঞ্জামাদিই একমাত্র খাত, যে খাতে জুনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তার পরও ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিক্রি কমে আসার ব্যাপারে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষে হিসাব করলে উৎপাদন হবে গত বছরের মতোই।
ঋণব্যয় ছাড়াও পরিষেবা খাত দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে উৎপাদন খাত। দুর্বল চাহিদার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা কারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্ক ছিলেন। অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, বাজারের অস্থিতিশীলতা ও ঋণের কড়াকড়ির কারণে খাতটি এখনো মাথা উঁচু করতে পারেনি। পরিবহন সরঞ্জাম ছাড়াও মুদ্রণ, নন-মেটালিক খনিজ পণ্য ও প্রাইমারি মেটাল বেড়েছে জুনে। শীর্ষ ১১টি শিল্প গ্রুপের মধ্যে কাঠের পণ্য, টেক্সটাইল মিল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কম্পিউটার যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক পণ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সমীক্ষা অনুসারে, নতুন অর্ডার মে মাসে ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল, যা জুনে ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশে উঠে এসেছে। ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে এখনো আশঙ্কা রয়েছে। কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাতারা বলেছেন, গ্রাহকরা পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে মনোভাব সংকুচিত করেছেন।
চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে আমদানি ছিল কম। অবশ্য পরিষেবা খাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই এখন প্রধান লক্ষ্যমাত্রা। মজুরি বৃদ্ধি ও আবাসন খাতের উচ্চ ভাড়ার কারণে কঠিন রয়ে গেছে পরিস্থিতি। যদিও সরকারি হিসাবে চাকরি বেড়েছে। মে মাসে চাকরি বেড়েছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার, অন্যদিকে জুনে চাকরি বেড়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার। উৎপাদন খাতের অবস্থা নেতিবাচক। যদিও আবাসন খাত কিছুটা প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।










