দুই বছর পর মে মাসে পাইকারি বাজারের মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হয়েছে জাপানে। বছরওয়ারি ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে দাম, যা ছিল পূর্বাভাসের তুলনায় কম। দেশটিতে মে মাসে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের অবমূল্যায়ন অব্যাহত। সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। খবর কিয়োদো এজেন্সি।

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিওজের বিবৃতি অনুসারে, দুই কোম্পানির মধ্যে পণ্য বিনিময় মূল্য টানা ২৭ মাস বেড়েছে। বর্তমানেও দেশটিতে অব্যাহত মূল্যস্ফীতি। ব্যাংক অব জাপান এক বছর ধরে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের নিচে আনার চেষ্টা করলেও তাতে সফল হয়নি। তবে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি মন্থর। তার প্রধান কারণ জ্বালানির দাম কমানোর জন্য সরকারের দেয়া ভর্তুকি। ২০২১ সালের জুনের পর মে মাসে দাম বাড়ার হার ছিল সবচেয়ে কম। পাইকারি দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ। বিপরীতে এপ্রিলে মূল্যবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ডিসেম্বরে বৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। 

মে মাসে বাণিজ্যিক পণ্যের দাম আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যাংক অব জাপান বর্তমানে মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করছে। ফলে চলতি বছরের শেষ দিকে খরচ কমে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। 

এদিকে এক বছর আগের তুলনায় আমদানি মূল্য ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো কমেছে দাম। বাণিজ্য খাতে চাপ কিছুটা কমেছে। গত বছর ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দ্রুত অবমূল্যায়নের কারণে বেড়ে যায় আমদানি খরচ। পাশাপাশি রফতানি মূল্য বেড়েছে ২ শতাংশ। খাদ্য ও কোমল পানীয়ের মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। খনিজ পণ্যের দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। পেট্রোলিয়াম ও কয়লার দাম কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ ও চলমান বৈশ্বিক মন্দাবস্থার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। ব্যাংক অব জাপানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘‌আমরা পণ্যের দাম ও বিদেশী মুদ্রা বিনিময় হারের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। দেখছি কীভাবে পরবর্তী সময়ে ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলে।’