আগস্টে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ১০ মাসের সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। পণ্য রফতানি ধারাবাহিকভাবে নবম মাসের মতো নিম্নমুখী। গত এক বছরে প্রথমবারের মতো পতন ঘটেছে পরিষেবা রফতানিতে। কারণ হিসেবে রফতানি কমে যাওয়া ও আমদানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। খবর দ্য হিন্দু। 

আগস্টে ভারতের রফতানি ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৫০ কোটি ডলারে। পরিষেবা রফতানি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছিল। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার সময়ও ভালো চলছিল দেশটির পরিষেবা রফতানি। তবে আগস্টে এসে তা দশমিক ৪ শতাংশ কমে ২ হাজার ৬৩৯ কোটি ডলারে ঠেকেছে। এর মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, চলতি প্রান্তিকে ঘাটতি আরো বাড়তে পারে। 

পণ্য আমদানি আগস্টে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ঠেকেছে ৫ হাজার ৮৬৪ কোটি ডলারে। যদিও আমদানি জুলাইয়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশিই ছিল। পণ্য খাতে বাণিজ্য ঘাটতি আগস্টে ২ হাজার ৪১৬ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের আগস্টের তুলনায় মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ কম। তবে জুলাইয়ের তুলনায় ঘাটতি ১৭ শতাংশ বেশি। 

ইনভেস্টিং ইনফরমেশন অ্যান্ড ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির (আইসিআরএ) প্রধান অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ার জানিয়েছেন, আগস্টের আমদানি বৃদ্ধি বাণিজ্য ঘাটতিকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান ঘাটতি ১০ মাসের সর্বোচ্চ। তার ভাষায়, ‘‌চলতি বছরের এপ্রিল-জুন সময়ের তুলনায় জুলাই-আগস্টে গড়ে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেশি। ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি চলতি বছরে আরো সম্প্রসারিত হবে।  

রফতানি পতনের বড় একটা অংশের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে পেট্রলের মূল্য। পেট্রোলিয়ামের রফতানি এপ্রিল-জুলাইয়ে ৬ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দাম ছিল ২৭ শতাংশ কম। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‌অন্তত ১৩টি পণ্যই চলতি বছরে ২৩ শতাংশ রফতানিতে ভূমিকা রেখেছে। 

বাজার দৃষ্টে মনে হচ্ছে, এখনো ভারতীয় পণ্যের চাহিদা যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। 

বাণিজ্যমন্ত্রী সুনীল রার্থওয়াল জানান, রফতানি খাত নিয়ে তিনি এখন গত মাসের তুলনায় আরো বেশি আশাবাদী। পেট্রোলিয়ামের মতো পণ্যের দাম বাড়ছে। দৃশ্যমান হচ্ছে উৎপাদন তৎপরতা। 

অর্থনৈতিক মন্থরতা সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি আরো এক দফা সুদহার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাহিদা কিছুটা ভঙ্গুর অবস্থায় থাকতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এর আগে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশে, যা গত চার প্রান্তিকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

বাণিজ্যিক পণ্য দ্বিতীয় প্রান্তিকে বড় ভূমিকা রেখেছে। একই সময়ে কমেছে জ্যাম ও জুয়েলারি রফতানিও। দ্য ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্টারস অর্গানাইজেশন (এফআইইও) জানিয়েছে। প্রধান অর্থনীতিনির্ভর দেশগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে চাহিদা কমে গেছে। অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার বাজারেও চাহিদা নিম্নমুখী রয়েছে। এফআইইওর প্রধান আ সাকথিভেল বলেছেন, ‘‌আগামী দিনগুলোয় চাহিদা বাড়বে। ক্রিসমাস ও নববর্ষের কারণেও নতুন ক্রয়াদেশ আসতে শুরু করবে। এখন সবচেয়ে বেশি দরকার হলো ছোট ব্যবসাগুলোকে দাঁড়াতে সাহায্য করা। ভারতীয় পণ্যের প্রসারে সহযোগিতা করা। সরবরাহ চেইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা।’