আগামী বিপণন মৌসুমে কফির বৈশ্বিক উৎপাদন ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেকাংশে কমে যেতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন (আইসিও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, চলতি মাসেই কফির বৈশ্বিক উৎপাদন মৌসুম (২০২০-২১) শেষ হবে। এ মৌসুমে উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মৌসুম শেষে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। তবে অক্টোবরে শুরু হতে যাওয়া ২০২১-২২ মৌসুমে উৎপাদন ঘাটতির ইঙ্গিত দিয়েছে আইসিও।

সংস্থাটির একটি সূত্র জানায়, ২০২১-২২ উৎপাদন মৌসুমে কফি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে। ফলে ওইসব দেশে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এটি বৈশ্বিক উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করতে পারে। আগামী মৌসুমে কফির বৈশ্বিক ব্যবহারের তুলনায় সরবরাহ অত্যধিক মাত্রায় হ্রাসের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যদিও আইসিও এখনো আগামী মৌসুমের উৎপাদন ঘাটতির নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ প্রকাশ করেনি। তবে প্রতিষ্ঠানটি চলতি মৌসুমের উদ্বৃত্তের প্রাক্কলন করেছে। প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী, শেষ হতে চলা মৌসুমে ২৬ লাখ ব্যাগ কফি উদ্বৃত্ত থাকবে। এর আগের প্রাক্কলনে আইসিও ২৩ লাখ ব্যাগ উদ্বৃত্তের তথ্য দিয়েছিল। মূলত কফি ব্যবহারের পরিমাণ কমে যাওয়ায় উদ্বৃত্ত বাড়বে।

আইসিও জানায়, মহামারীর আগে বৈশ্বিক কফি ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ৭৬ লাখ ব্যাগ। চলতি মৌসুমে ব্যবহারের পরিমাণ কমে ১৬ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজার ব্যাগে নেমে আসবে।