ব্যবহার কমে যাওয়ায় এবং আগে থেকে মজুদ থাকার কারণে মে মাসে চীনে কমতে পারে সয়াবিনের চাহিদা। দেশটির উন্মুক্ত বাজারে এপ্রিলে গমের চাহিদা ২০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছিল ৮০ লাখ টনে। জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে চাহিদাসূচক ১০ শতাংশ কমেছে। খবর প্লাটস।
চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীন ১ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছে, যা বছরওয়ারি ১৬ শতাংশ বৃদ্ধির রেকর্ড। ডিসেম্বরে কভিড-১৯-পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয় দেশটি থেকে। তারপর হঠাৎ বেড়ে যায় সয়াবিনের চাহিদা। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আমদানি ছিল প্রত্যাশিত চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে চাহিদার চেয়ে সয়াবিন উৎপাদন হয়েছে বেশি। মজুদ সয়াবিনই বর্তমান সময়ে চাহিদাসূচক নেমে যাওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ।
চীন সাধারণত ৯ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৯ কোটি ৭০ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করে প্রতি বছর। তার মধ্যে ৮০ শতাংশই প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় প্রোটিন ও পশুখাদ্য। তবে চলতি বছরের মাঝামাঝিতে পশুখাদ্য হিসেবে সয়াবিনের চাহিদা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমতে শুরু করেছে। চীনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার প্রোটিন-প্রধান পশুখাদ্য সয়াবিন। সম্প্রতি খাদ্য তৈরিতে এ উপাদানের ব্যবহার কমে আসার প্রধান কারণ সরকারি সিদ্ধান্ত।
২০২১ সালে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় পশুখাদ্য হিসেবে সয়াবিনের ব্যবহার কমাতে বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করে। লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করে সয়াবিনের প্রতি নির্ভরতা কমিয়ে আনার। পশুখাদ্যে সয়াবিনের ব্যবহার ২০২১ সালে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়। ২০২৫ সালে তা আরো কমিয়ে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
কতিপয় চীনা পশুখাদ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানি সরকারি সিদ্ধান্তে সাড়া দিয়েছে। তারা পশুখাদ্য প্রস্তুতে সয়াবিনের ব্যবহার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশের নিচে নামিয়েছে। শূকর ও পোলট্রি উৎপাদন খাতেও কমেছে সয়াবিনের ব্যবহার, যা সার্বিকভাবে সয়াবিনের চাহিদা কমাতে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
অন্যদিকে মার্চে সয়াবিন উৎপাদন বাড়ানোর কথা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচার পরিষেবা প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এ মৌসুমে ১ লাখ ৩০ হাজার টন সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোরিয়ার সরকার ২০২৭ সাল নাগাদ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার হার ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চাইছে। ২০২১ সালে যার পরিমাণ ছিল ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।










