ইরানের দুটি বন্দরে এক মাসেরও বেশি সময় আটকে আছে ২০টির বেশি খাদ্যশস্য বোঝাই জাহাজ। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে মূল্য পরিশোধ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় জাহাজ থেকে পণ্যগুলো খালাস করতে পারছে না ইরান। ফলে আমদানি করা এসব গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যে কারণে আমদানিকারক তালিকায় থাকা বিজিএন ও চীনের সিওএফসিও ইন্টারন্যাশনালের মতো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো মূল্য পরিশোধে জটিলতায় পড়েছে। ফলে ইরানের বন্দরে থাকা পণ্যের জন্য প্রতিদিন ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে কোম্পানিগুলোর।
পশ্চিমা ও ইরানের সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির বন্দর ইমাম খোমেনি ও আব্বাসে এক মাসেরও বেশি সময় এসব জাহাজ আটকে আছে। এসব জাহাজে থাকা কার্গোগুলোয় সয়াবিন ও ভুট্টাসহ অন্যান্য খাদ্যশস্য রয়েছে। যার অধিকাংশ দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয়েছে।
২০১৫ সালে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে আসার পর ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে খাদ্য, চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তামূলক পণ্যকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এখন তেল রফতানি থেকে শুরু করে আর্থিক কার্যক্রমকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসছে। এতে কোনো বিদেশী ব্যাংক ইরানের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে লেনদেন করতে পারছে না। এমনকি মানবিক সহায়তামূলক খাদ্যপণ্যও এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় চলে এসেছে। এ অবস্থায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন স্থগিত রাখলেও ঋণদাতা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। যদিও এ অবস্থায় অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের।
ইউরোপীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, মানবিক সহায়তামূলক পণ্যের ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। কিন্তু লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা যাচ্ছে না। এটার জন্য কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে।
অন্য একটি সূত্র জনিয়েছে, বন্দর থেকে পণ্য খালাস করতে না পারায় ইরানের বাজারে আরো পণ্য বিক্রি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের বন্দরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, গত বছরের নভেম্বর থেকে আর্থিক লেনদেনের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর মূল্য পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার আওতা বেড়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যবিষয়ক লেনদেন না করা ব্যাংক ও ব্যবসায়ীর










