আবারো ধাতব পণ্যের দেশীয় মজুদ উন্মুক্ত করেছে চীন।
এ নিয়ে তৃতীয় বারের মতো মজুদ উন্মুক্ত করা ঘটনা ঘটল।
মূলত দেশীয় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে ধাতব পণ্যে আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
চীনের মজুদ প্রশাসন এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রশাসন জানায়, গতকাল ধাতব পণ্যের দেশীয় মজুদ থেকে ১৫০ টন উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।
অনলাইন প্লাটফর্মে এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ন্যাশনাল ফুড অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভস অ্যাডমিনিস্টেশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি আলাদা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩০ হাজার টন তামা, ৫০ হাজার টন দস্তা ও ৭০ হাজার টন অ্যালুমিনিয়াম দেশীয় মজুদ থেকে বিক্রি করা হয়েছে।
এর আগে ২৯ জুলাই দ্বিতীয় নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
এতে মজুদ প্রশাসন ৯০ লাখ অ্যালুমিনিয়ামসহ ১ লাখ ৭০ হাজার টন ধাতব পণ্য বিক্রি করে।
এর আগে ২ জুলাই চীন প্রথমবারের মতো দেশীয় মজুদ থেকে ২০ হাজার টন তামা, ৫০ হাজার টন অ্যালুমিনিয়াম ও ৩০ হাজার টন দস্তা স্থানীয় বাজারে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করেছিল।
প্রথম দুই নিলামে সব মিলিয়ে ২ লাখ ৭০ হাজার টন ধাতব পণ্যের মজুদ উন্মুক্ত করা হয়।
নিলামে স্বাভাবিক দামের চেয়ে ৩-৯ শতাংশ কম দামে এসব ধাতব পণ্য বিক্রি করা হয়েছে।
চীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধাতব পণ্য ব্যবহারকারী দেশ।
দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই এসব পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া।
ঊর্ধ্বমুখী বাজারে লাগাম টেনে ধরতে স্থানীয় বাজারে ধাতব পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির নীতিনির্ধারকরা।
এরই অংশ হিসেবে জুলাইয়ের শুরুতে প্রথম বারের মতো ধাতব পণ্যের মজুদ উন্মুক্ত করা হয়।
চীনের কয়েকটি পণ্যবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জানায়, জুলাই থেকে শুরু করে বছরের শেষ পর্যন্ত প্রতি মাসেই দেশীয় মজুদ থেকে স্থানীয় বাজারে ধাতব পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে মজুদ প্রশাসনের।
কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাবের ফলে আগস্টে ধাতব পণ্যের মজুদ উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তবে চলতি মাস থেকে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মজুদ প্রশাসন জানায়, চীনে ধাতব পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দাম আকাশছোঁয়া।
ফলে বিপাকে পড়েছেন দেশটির ক্ষুদ্র ও মাঝারি কোম্পানিগুলো।
এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার দেশীয় মজুদ থেকে নিলামের মাধ্যমে ধাতব পণ্য বিক্রির ধারা অব্যাহত রাখবে।
ধাতব পণ্য প্রক্রিয়াজাত ও উৎপাদক কোম্পানিগুলো নিলামে অংশ নিতে পারবে।










