দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘ক্র্যাশ ল্যান্ডিং অন ইউ’-এর একটি দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল সুইজারল্যান্ডের ছোট্ট গ্রাম ইসেল্টওয়াল্ডের ডকে। লেক ব্রিয়েঞ্জের পাড়ে অবস্থিত কাঠের তৈরি ডকটি এখন হয়ে উঠেছে সিরিজ ভক্তদের কাছে আকর্ষণীয় জায়গা। সেখানে এশিয়াসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সে দৃশ্যের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছেন পর্যটকরা। এতে গ্রামটির অর্থনীতি একদিকে সমৃদ্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে পর্যটকের বাড়তি চাপে স্থানীয়দের ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। খবর এপি।

২০২৩ সালে ডকে প্রবেশের জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় দরজা বা টার্নস্টাইল বসায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের মতো পর্যটক জনপ্রতি ৫ সুইস ফ্রাঁ (৬ ডলার ৩০ সেন্ট) পরিশোধ করে ডকে প্রবেশ করছেন। ২০২৪ সালে ডক থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ফ্রাঁ (৩ লাখ ৭ হাজার ডলার)। এছাড়া কাছাকাছি একটি পাবলিক টয়লেট থেকে এক ফ্রাঁ করে ফি নিয়ে আরো ৫৮ হাজার ফ্রাঁ আয় হয়েছে।

তবে এ আয় নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গ্রামটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গ্যাব্রিয়েলা ব্ল্যাটার জানান, এসব অর্থের বেশির ভাগই খরচ হয় আবর্জনা পরিষ্কার, টয়লেট ব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগে। পর্যটন সংস্থা বোনিজেন-ইসেল্টওয়াল্ডের ব্যবস্থাপক টিটিয়া ওয়েইল্যান্ড জানান, আয় পুরোটাই স্থানীয় অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহার করা হয়।

মাত্র ৪০৬ জন বাসিন্দার গ্রাম ইসেল্টওয়াল্ড আগে ছিল একটি নিরিবিলি হ্রদসংলগ্ন এলাকা। বর্তমানে সেখানে মাত্র তিনটি হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁ থাকলেও প্রতিদিনই ভিড় করছেন শত শত পর্যটক। একমাত্র মুদি দোকানটি আগে সপ্তাহে পাঁচদিন খোলা থাকলেও এখন সাতদিনই খোলা রাখতে হচ্ছে।

গ্রাম প্রশাসনের একজন ক্লার্ক গ্যাব্রিয়েলা ব্লাটার বলেন, ‘তবে সমস্যা তৈরি হয়েছে শৃঙ্খলার অভাবে। অনেক পর্যটক বসতবাড়ির উঠোন ও বাগানে ঢুকে পড়ছেন। আমরা পর্যটকদের স্বাগত জানাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু অনেকেই বুঝতে পারেন না কোনটা ব্যক্তিগত, আর কোনটা উন্মুক্ত জায়গা।’

এ অবস্থায় গ্রাম কর্তৃপক্ষ একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে, যেখানে পর্যটকদের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা, ময়লা না ফেলা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যেখানে একসময় নিরিবিলি পরিবেশে চিত্র ধারণ করা হয়েছিল, সে স্থানটি এখন বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসছেন। কিন্তু এত মানুষের ভিড় সামলানো এখন ইসেল্টওয়াল্ডের বাসিন্দাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, জনপ্রিয়তার সুফল যেমন মিলছে, তেমনি অনেক সমস্যা ও ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।