দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আবারো বেড়েছে পেঁয়াজের পাইকারি দাম। আমদানি কমে যাওয়ায় পাঁচদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৪-৫ টাকা করে দাম বেড়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, পাঁচদিন আগেও বন্দরে পাইকারিতে (ট্রাকসেল) প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ২৫-২৭ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে দাম বেড়ে ২৯-৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকাররা।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত আছে। মাঝে দু-একদিন দক্ষিণ ভারতের বেলোরি জাতের পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে সেটি বন্ধ রয়েছে। ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৯ টাকায়। কিছু পেঁয়াজ সাড়ে ২৮ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে। পাঁচদিন আগে এ জাতের পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৫ টাকা। অন্যদিকে নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা কেজি দরে। পাঁচদিন আগেও এ জাতের পেঁয়াজ ২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার আব্দুর রফউ ও ইলিয়াস আলী বলেন, গত সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বেশ কম ছিল। সেই সময় বন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনে মোকামে পাঠাতে বেশ সুবিধা হয়েছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহের প্রথম থেকেই পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে। এমন অবস্থায় আমরা পেঁয়াজ কিনতেই ভয় পাচ্ছি।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোজাম হোসেন বলেন, কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখেছি। কিন্তু অতিরিক্ত গরমের কারণে আমদানীকৃত পেঁয়াজ পঁচে যাওয়ায় মান খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। ফলে বাধ্য হয়েই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। এছাড়া দেশীয় পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকার মতো কমে যাওয়ায় ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ কারণেও আমদানীকৃত পেঁয়াজের দাম কমেছে। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় ভারত থেকে পেঁয়াজ ক্রয় কমিয়ে দেন আমদানিকারকরা। এদিকে ভারতের বাজারেও পেঁয়াজের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। সব মিলিয়ে দেশের বাজারে প্রভাব পড়েছে। বেলোরি জাতের পেঁয়াজ আসা শুরু হলে দাম কমবে বলেও জানান তিনি।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত থাকলেও আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। রোববার ২১টি ট্রাকে ৫৮৬ টন এবং শনিবার ২৭টি ট্রাকে ৬৫৬ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু বন্দর দিয়ে সোমবার ১৭টি ট্রাকে ৪৬৪ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। মঙ্গলবার আমদানি আরো কমে ২৫৪ টনে নেমে যায়।