দিনাজপুরের হিলিতে আবারো বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। চলতি মৌসুমে বোরো ধান উৎপাদন ভালো হওয়া সত্ত্বেও চালের দাম বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা বেড়েছে। ধানের দরবৃদ্ধি ও ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ হওয়ায় চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, স্বর্ণা জাতের চাল এক সপ্তাহ আগে ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪৪-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রত্না জাতের চালের দাম ৪৪ থেকে বেড়ে কেজিপ্রতি ৪৬-৪৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে চাল কিনতে আসা মনিরুল ইসলাম বলেন, নতুন ধান ওঠায় বাজারে চালের দাম কমার কথা ছিল। কিন্তু চালের দাম উল্টো বাড়তে শুরু করেছে। আমরা কয়েকদিন আগেও চাল কিনেছি ৪০-৪১ টাকা কেজি দরে। এখন তা বেড়ে ৪৩-৪৫ টাকা হয়ে গেছে। চালের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে।

হিলি বাজারের চাল বিক্রেতা সুব্রত কুণ্ডু ও আসলাম হোসেন বলেন, বাজারে নতুন চাল আসার পরও দাম বাড়তির দিকে। সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ। আমদানিকারকদের কাছে যেসব চাল মজুদ ছিল, তাও শেষ হয়ে গেছে। এতে বাজারে আমদানীকৃত ভারতীয় চাল সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দেশীয় চালের ওপর চাপ পড়ায় চালের দাম বাড়ছে। এছাড়া আগে যে ধান মণপ্রতি ৮৫০-৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাল উৎপাদন খরচ বাড়ায় দাম বাড়ছে।

তিনি আরো বলেন, দরবৃদ্ধির কারণে মিলাররা ধান কেনার সাহস পাচ্ছেন না। ফলে দেশীয় চাল সরবরাহ কমে গেছে। এজন্য আমরাও বেশি দামে কিনে বেশি দামেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে আগে ৬০-৭০ ট্রাক চাল আমদানি হয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনার কারণে গত ৩০ এপ্রিল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। বন্দরের ওয়্যারহাউজে আমদানীকৃত যেসব চাল ছিল, সেগুলোও আমদানিকারকরা খালাস করে নিয়েছেন।