তীব্র আঘাত পেরিয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে চীনের অর্থনীতি। করোনাভাইরাস সংক্রান্তনিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় আগামী বছরে সেখানে তেলের চাহিদা আরো বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
২০২২ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি গ্রাহকের তেলের চাহিদা সংকোচনের পরে এবার আবার তা পুনরুদ্ধারের পথে আসবে। দুই দশকের মধ্যে এবারই প্রথম এ পরিস্থিতি দেখছে চীন। দেশটির জিরো কভিড নীতির কারণেই তাদের অর্থনীতিতে আঘাত আসে এবং নানা কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আসে।
রংশেং পেট্রোকেমিক্যালের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার চেন হংবিং বলেন, এ বছরে আমরা ক্রুড অয়েল আমদানি কমতে দেখেছি। চীনের অনেক বছরের ইতিহাসে এমনটা এবারই প্রথম।
গ্যাসোলাইন ও জেট ফুয়েলের উৎপাদনও কমতে দেখেছি, কিন্তু ডিজেলের উৎপাদন সত্যিকার অর্থেই বেড়েছে এবং এর চাহিদাও এখন অনেক বেশি আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দেশের অর্থনীতিকে আরো একটু চাঙ্গা করার জন্য আরো কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বেইজিং। সেখানে তাদের লক্ষ্য থাকবে গ্রাহকদের আরো পুনরুজ্জীবিত করা এবং বিনিয়োগে উৎসাহিত করা।
পেট্রোচায়না ইন্টারন্যাশনালের প্রধান অর্থনীতিবিদ ডব্লিউইউ কিউনান বলেন, সবচেয়ে বেশি বদলে যায় এমন তথ্যের দিকে আমরা নজর রেখেছি। তার মধ্যে উড়োজাহাজের বুকিং, রাস্তার যানজট এবং খরচের মতো তথ্যগুলোর দিকে নজর দিয়েছি। সেদিক থেকে চীনে কিছু ভালো কার্যক্রম দেখা গিয়েছে।
তার আশা তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি আরো বেশি হবে। চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় আগামী বছরে গ্যাসোলাইনের চাহিদাও বাড়বে। যদিও বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের বিক্রি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, ফলে যানের জ্বালানিতে প্রভাব আসবে বলেও মনে করেন তিনি।
দুজন কর্মকর্তারই বিশ্বাস জেট ফুয়েলের চাহিদাও বাড়বে, কারণ আকাশপথে চলাচলের মাত্রা এ সময়ে বৃদ্ধি পাবে। যদিও এভিয়েশন জ্বালানিতে চাহিদা পুনরুদ্ধার হতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে অন্যান্য জ্বালানির তুলনায়, কেননা আন্তর্জাতিক চলাচলে এখনো বেশকিছু কঠোর পরিস্থিতি রয়েছে।
চীনের জ্বালানি রফতানি ক্রমাগত কমতির মুখে রয়েছে। সেই জায়গা থেকে পরিস্থিতি উত্তরণে আশা করা হচ্ছে বছরের বাকি সময়টার জন্য দেশটির সরকার দেড় কোটি টন পর্যন্ত তেলজাতীয় পণ্য রফতানি কোটা বাড়াবে।
পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীনই ইউরোপের তুলনায় সবচেয়ে বেশি দাম প্রতিযোগিতাপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানান চীনের শেংহং পেট্রোকেমিক্যালের ডিরেক্টর সান জিন।










