চলতি অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ইউরোজোন আরেকটি অর্থনৈতিক সংকোচনের মুখে পড়তে পারে। অর্থনীতিবদরা জানান, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার ধারা সম্ভবত আগামী মাসগুলোয়ও অব্যাহত থাকবে। গত বছর যেভাবে দ্রুত মূল্যস্ফীতি কমেছে, চলতি বছর তা নাও হতে পারে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি থাকার কারণে ইসিবির আগামী বৈঠকে কখন সুদহার কমানো শুরু হবে, তা কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। যদিও বেশকিছু অর্থনীতিবিদ চলতি বছর মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করছেন। তবে ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের আগে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছে না ইসিবি।

ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লুইস ডে গুইনদোস জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যগুলো (ইনডিকেটরস) ডিসেম্বরে ইউরোজোনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সংকোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে মন্দা ও স্বল্পমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে চিহ্নিত করে।

মন্দার ফলে মুদ্রানীতি কেমন হবে তা স্পষ্টভাবে জানায়নি ইসিবি। তবে ইসিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট লুইস ডে গুইনদোস সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তথ্যনির্ভর পদ্ধতি অবলম্বনের ওপর জোর দিয়েছেন।

ডাচ ব্যাংক আইএনজিয়ের অর্থনীতিবিদ কার্স্টেন ব্রেজেস্কি জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি বাড়ার বিষয়ে ভাইস প্রেসিডেন্টের মন্তব্য প্রথম প্রান্তিকে ইউরোজোনে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা হ্রাস করেছে। তিনি বলেছেন, ‘মার্চে সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা ধীরে ধীরে কমে আসছে।’

লুইস ডে গুইনদোস আশা প্রকাশ করছেন যে ইউরোজোনের মূল্যস্ফীতি স্পেনের মতো হবে। যেখানে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের নিচে নেমে এলেও জ্বালানি ক্ষেত্রে ভর্তুকি শেষ হওয়ায় বছরের শেষার্ধে মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসা ও উচ্চ মজুরির কারণে চলতি বছর কিছুটা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের আশা করছেন ইউরোজোনের অর্থনীতিবিদরা। তবে ইউরোজোনের সংকুচিত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নির্মাণ ও শিল্পোৎপাদনের মতো খাতগুলোয় দুর্বল প্রবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।