সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের শেয়ারবাজারে চাঙ্গা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। নিক্কেই স্টক ইনডেক্সে ৩৪ বছরের রেকর্ড ভেঙে সূচক ৪০ হাজার পয়েন্ট পর্যন্ত ওঠে। শেয়ারের দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে কোম্পানিগুলো কর্মী ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ নিয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা এসেছে। বলা হচ্ছে, এমন পদক্ষেপ মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোম্পানি পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে করপোরেট কোম্পানিগুলোর তাগিদ তুলে ধরেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান টোকিও শোকো রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ১৪টি কোম্পানি ৩ হাজার ৬১৩ কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার প্রস্তাব করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ছয় গুণ বেশি। এমনকি গত বছরের মোট ছাঁটাইকে ছাড়িয়ে গেছে, এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ১৬১ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বেতন কমানোর ঘোষণা দেয় বেশকিছু কোম্পানি। যাদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ কোম্পানিই লাভজনক অবস্থানে ছিল, যা কভিড-১৯ মহামারী চলাকালে কর্মী ছাঁটাইয়ের একদম বিপরীত অবস্থা। ওই সময় মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে কর্মী ছাঁটাই বেড়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে জাপানের কর্মী ছাঁটাইয়ের অন্যতম প্রধান পদ্ধতি হচ্ছে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়া। টোকিও শোকো রিসার্চ বলেছে, ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সে লক্ষণীয় পুনরুদ্ধার অর্জনে বড় কোম্পানিগুলো প্রাথমিক ও স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার সংখ্যা বাড়িয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় কোম্পানিগুলো এখন পূর্ণ মাত্রায় কাঠামোগত সংস্কার শুরু করেছে।
কসমেটিকস কোম্পানি শিসেইডো ও ইলেকট্রনিকস কোম্পানি ওমরন সবচেয়ে বেশি কর্মী ছাঁটাই করেছে। শিসেইডো জাপানে দেড় হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে এক হাজার ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে ওমরন। সেভেন অ্যান্ড আই হোল্ডিংসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপারমার্কেট চেইন ইতো ইয়োকাডোতে প্রায় ৭০০ কর্মীকে আগাম অবসরে পাঠিয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদন শুধু জাপানে ছাঁটাইয়ের হিসাব অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে বিদেশে কর্মী ছাঁটাইয়ের হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যেমন জাপানের বাইরে ওমরন অতিরিক্ত ১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। অন্যদিকে সনি গ্রুপ তার গেমস বিভাগে বিশ্বব্যাপী ৯০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে।
শিসেইডো ও ওমরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের জন্য অর্থনৈতিক মন্দার লক্ষণকে দায়ী করেছেন অর্থনীতিবিদ তোশিহিরো নাগাহামা। সঙ্গে যোগ করেন, করপোরেট নির্বাহীরাও মানবসম্পদ কৌশলে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছেন।
তোশিহিরো নাগাহামা আরো জানান, এতদিন জাপানি করপোরেট প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের নিরাপত্তাকে সাধারণ নিয়ম আকারে দেখে এসেছে। তবে এখন প্রতিযোগিতা তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করপোরেট খাত আগাম অবসরের মাধ্যমে অতিরিক্ত কর্মী ছাঁটাই ও অবশিষ্ট কর্মীদের বেতন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
জাপানে বড় কোম্পানিগুলোর গত বছর মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন দশকের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় মজুরি বৃদ্ধি। ক্রমাগত মূল্যস্ফীতি ও দ্রুত সংকুচিত শ্রমবাজারের কারণে অর্থনীতিবিদরা চলতি বছর আরো বড় মজুরি বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন।
একই সঙ্গে মুনাফা বাড়াতে কোম্পানিগুলোও চাপের মধ্যে রয়েছে। গত বছর টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনাকে মূলধনের কার্যকর ব্যবহার ও শেয়ারের দাম বাড়ানোর অনুরোধ করেছিল। এটি কোম্পানি সংস্কার কার্যকর করার পাশাপাশি জাপানি স্টকের উত্থানেও অবদান রেখেছে। সাম্প্রতিক নিক্কেই স্টক ইনডেক্সে এর প্রভাব দেখা গেছে।










