জাপানের ডেভেলপার মিৎসুবিশি এস্টেট ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার সাশ্রয়ী ভাড়া বাড়ি পরিচালনা করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। মূলত অনলাইনে হোম অফিস করা (ফ্রিল্যান্সার) এবং প্রবাসীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া। 

মিৎসুবিশি সম্প্রতি মার্কিন কোম্পানি ব্লু গ্রাউন্ডের সঙ্গে এ-বিষয়ক একটি অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যারা প্রবাসীদের জন্য সুসজ্জিত আবাসনসেবা প্রদান নিয়ে বহুদিন ধরে কাজ করছে। ব্লু গ্রাউন্ড বিশ্বব্যাপী ১৫ হাজার ভাড়া বাড়ির ইউনিট পরিচালনা করে আসছে, যেখানে ৩২টি শহরে প্রায় ১০ হাজার বার্ষিক ভাড়াটে রয়েছে। জাপানে এটাই হবে ব্লু গ্রাউন্ডের প্রথম প্রকল্প।

জাপানের টোকিওতে মিৎসুবিশির একটি সহায়ক সংস্থা হিসেবে ব্লু গ্রাউন্ডের অ্যাপ বাড়ি ভাড়া দেয়ার প্লাটফর্মরূপে কাজ করবে। এছাড়া ব্লু গ্রাউন্ডের অ্যাপটি বিদেশী অতিথিদের বাড়ি ভাড়া নেয়ার ক্ষেত্রে ভালো এলাকা শনাক্তে সহায়তা করবে।

প্রাথমিকভাবে টোকিও শহরের শিবুয়া ও শিনজুকুর মতো জনপ্রিয় অঞ্চলগুলোয় ভাড়া বাড়ির ব্যবস্থা করা হবে, যেগুলোর মাসিক ভাড়া গড়ে ৩-৫ লাখ ইয়েনের (২ হাজার ১০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ ডলার) মধ্যে থাকবে।

মিৎসুবিশি এরই মধ্যে জাপানে বিদেশীদের তরুণদের জন্য প্রায় ৭০০টি দীর্ঘমেয়াদি ভাড়া বাড়ির সেবা দিয়ে আসছে। বড় পরিসরে ব্লু গ্রাউন্ডের সঙ্গে চুক্তিটি ২০৩০ সাল নাগাদ বিদেশী দর্শনার্থীদের জন্য প্রায় ১০ হাজার ইউনিট তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করছে।

অনলাইনে হোম অফিস করা কর্মী বা ফ্রিল্যান্সাররা যেহেতু ক্রমাগত বাসা স্থানান্তর করেন, তাই এরাই এ পরিকল্পনার মূল প্রত্যাশিত গ্রাহক। হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৩ কোটি ৫ লাখ ডিজিটাল রিমোট জব করা কর্মী বা ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০০ কোটিতে উন্নীত হবে। এ ধরনের পেশাজীবীরা যথেষ্ট আয় করেন। তাই তাদের আকৃষ্ট করার জন্য আবাসন বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে।

এস্তোনিয়া ও তাইওয়ান এ ধরনের কর্মীদের জন্য বিশেষ ভিসা ব্যবস্থা চালু করেছে। জাপান সরকার জানিয়েছে, নতুন বিশেষ ভিসা ব্যবস্থা ও আবাসিক সুবিধাসহ এ ধরনের দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে তারা কাজ করছে। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে জাপানে অবস্থানরত কর্মীদের সংখ্যা তিন গুণ বেড়ে জুনের শেষ নাগাদ প্রায় চার লাখে দাঁড়িয়েছে।