বিনিয়োগকারীরা চীনের তুলনায় ভারতকে বেশি পছন্দ করছেন। কারণ চীনে পরিচালিত সংস্থাগুলোয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ বাড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারত হলো বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় উদীয়মান বাজার। খবর ইয়াহু ফাইন্যান্স।

আর্থিক খাত বিশ্লেষণকারী অফিশিয়াল মনিটারি অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন ফোরামের (ওএমএফআইএফ) সমীক্ষা অনুযায়ী ১০০ বিনিয়োগকারীর মধ্যে দুই-পঞ্চমাংশ ভারতের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। চীন সমর্থন পেয়েছে এক-চতুর্থাংশেরও কম, যা যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলের সমান। বর্তমানে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। সমীক্ষায় অংশ নেয়া বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত আর্থিক মূল্য ২৫ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার। এদের মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বিনিয়োগকারী বলেছেন যে তারা চীনে বিনিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছেন। এজন্য ভূরাজনীতিকে দায়ী করছেন তারা।

গত বছরগুলোয় বিনিয়োগকারীরা বলতেন যে চীনে অর্থ রাখার সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল বিনিয়োগের বৈচিত্র্যকরণ, দেশটির আর্থিক খাতের সার্বিক সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতা। বিনিয়োগকারীরা উচ্চতর মুনাফার প্রত্যাশায় এতদিন চীনে বিনিয়োগ করতেন। কারণ বিশ্ব অর্থনীতিতে দেশটির ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ছিল। এছাড়া দেশটির প্রবৃদ্ধির সূচকগুলো ইতিবাচক ছিল।

২০২৩ সালের শুরুতে চীনা অর্থনীতির শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের আশায় ছিলেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষজ্ঞদের আশা ছিল, বেইজিং কর্তৃপক্ষ কঠোর কভিড লকডাউন ব্যবস্থা শিথিল করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে পারবে। কিন্তু এর পরিবর্তে প্রপার্টি খাতে সংকট আরো গভীর হয়েছে। সার্বিক প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ পরিচালনাকারী ফিউচার ফান্ডের পরিচালক ক্রেগ থরবার্ন বলেছেন, ‘‌আমরা চীনে বিনিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছি।’

ওএমএফআইএফয়ের ইকোনমিক অ্যান্ড মনিটারি পলিসি ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিখিল সাংহানি বলেন, ‘‌বড় ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সাধারণত রাতারাতি বাজার ছেড়ে যায় না। তবে এখন চীনে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা কমে গেছে। বিনিয়োগকারীরা চীনের বিষয়ে আরো দ্বিধাগ্রস্ত বা সতর্ক হয়ে উঠেছেন। তারা অবিলম্বে চীন থেকে তাদের অর্থ বের করে নেবেন। সম্ভবত তারা এখন উদীয়মান বাজারের দিকে যেতে চাচ্ছে। বিশেষ করে চীনের পরিবর্তে ভারতে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। আবার বিষয়টি এমন নয় যে ভারতের সূচকগুলো স্থির হয়ে আছে। এমন কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতকে অপেক্ষাকৃত উন্মুক্ত স্থান বলে মনে করছেন।’

বিশেষজ্ঞরা জানান, ভারত শিগগিরই পরোক্ষ বিনিয়োগের প্রবাহ থেকে উপকৃত হতে চলেছে। চীনা অর্থনীতির ধীরগতির বিপরীতে ভারতের অর্থনীতির অবস্থান আরো দৃঢ় হচ্ছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে চীনা আর্থিক খাত অস্থিরতার মুখে পড়েছে। আপেক্ষিক অর্থে ভারত একটু বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।