ভারতীয়দের কাছে স্বর্ণের কদর সুবিদিত। কিন্তু এখন রুপার মূল্য সেখানে দিনকে দিন ঊর্ধ্বগামী হয়েই চলেছে। মুম্বাইয়ের বাজারগুলোতে সম্প্রতি জরিপ চালিয়ে দেখা গিয়েছে, স্বর্ণের তুলনায় সেখানে রুপার চাহিদা বেশি। স্বর্ণের দাম হাতের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় সাধারণ ব্যক্তিরা রুপা কিনতে শুরু করেছেন। ক্রেতারা বেশির ভাগ সময় ধাতুর বার ও ধাতব মুদ্রা কিনলেও এবার রুপার অলংকার কেনার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। এদিকে ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের প্রথম সাত মাসে রুপা আমদানির পরিমাণ ৫ হাজার ১০০ টন ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে ২০২১ সালজুড়ে রুপা আমদানির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৭৩ টন, ২০২০ সালে ছিল ২ হাজার ২১৮ টন।

কিছুদিন আগে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমে যাওয়ায় তুলনামূলক কম মূল্যে এ দুটো ধাতু কেনার হিড়িক পড়ে যায় ভারতে। লকডাউন ও মহামারীর পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারলে ভারতে রৌপ্য মুদ্রায় বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন। মূলত পূজায় ও বিবাহ অনুষ্ঠানে এ দেশের জনগণ রুপার অলংকার ক্রয় করে থাকে। বর্তমানে দেশটিতে ১ কেজি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার ৪৮৫ রুপিতে। ২০২০ সালে সমপরিমাণ রুপার দাম সর্বোচ্চ ৭৭ হাজার ৯৪৯ পর্যন্ত উঠেছিল।

সোনা-রুপার মতো বিভিন্ন ধাতুর মূল্য কয়েকটি ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। রুপা ভারী শিল্প কারখানায় ব্যবহূত হয়ে থাকলেও বর্তমানে এটি স্মার্টফোন, সোলার প্যানেল ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়িতে ব্যবহূত হয়। তবে কাগুজে মুদ্রার ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়লেও স্বর্ণ ও রুপা সাধারণত এ থেকে মুক্ত থাকে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে ভারতের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রৌপ্য বিনিময় তহবিল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন রুপা এখনো বুলিশ ট্রেন্ডে রয়েছে। সম্প্রতি এর দাম কিছুটা শ্লথ থাকলেও তা কেজিপ্রতি ৬৫ হাজার রুপি পর্যন্ত যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা অবশ্য আগামী এক বা দেড় বছরে এর মূল্য কেজিপ্রতি ৮০ হাজার রুপি হবে বলে আশা করছেন।