বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহূত কয়লা রফতানিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ ইন্দোনেশিয়া। সম্প্রতি দেশটি জ্বালানিটির উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। উদ্দেশ্য রাশিয়া থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে যেসব দেশ বিপাকে পড়েছে সেসব দেশের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করা। ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী আরিফিন তাসরিফ বলেন, ইউক্রেনে হামলা চালানোর প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে দেশটি থেকে কয়লা আমদানিতে সরে এসেছে আমদানিকারক দেশগুলো। এসব দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সিডনি এনার্জি ফোরামে তিনি বলেন, যেসব দেশ রাশিয়ার কারণে কয়লা সংকটে পড়েছে, তাদের সর্বোচ্চ সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত। চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ার ৬৬ কোটি ৩০ লাখ টন কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে আগের চেয়ে লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু বাড়নো হয়েছে তা উল্লেখ করেননি তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত রিসোর্চ আছে। আমরা যদি ভারসাম্যের কথা বলি, তবে আমাদের উত্তোলন বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে খনি মালিকদের স্থানীয় বাজারে ২৫ শতাংশ সরবরাহ করার বাধ্যবাধকতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

ইউরোপ বর্তমানে কয়লা সংকটে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া চাইলেও এ সংকট পুরোপুরি নিরসনে সক্ষম হবে না। এক্ষেত্রে ক্রেতা দেশগুলোকে তাদের চাহিদার সঙ্গে ব্যবহারের সমন্বয় করতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন শীতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে। এ সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বে এশিয়ার দেশগুলো। এ পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার কয়লা উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তিদায়ক।