গত বুধবার আদালত এক রায়ে জানান, এ দুই প্রতিষ্ঠান জেনেশুনে এমনভাবে নিজেদের প্লাটফর্ম তৈরি করেছে, যা অল্প বয়সী ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে ফেলছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এক তরুণীর দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জুরি বোর্ড এ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
আদালতের রায়ে মেটা ও ইউটিউবকে সম্মিলিতভাবে ৬০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এ জরিমানার ৭০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করবে মেটা এবং বাকি ৩০ শতাংশ দেবে ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট ইউটিউব। এ মামলার বাদী ২০ বছর বয়সী এক তরুণী, যিনি আদালতে ‘কেজিএম’ ছদ্মনামে পরিচিত। তিনি আদালতে অভিযোগ করেন, মাত্র ছয় বছর বয়সে এ তরুণী ইউটিউবে এবং নয় বছর বয়সে ইনস্টাগ্রামে আসক্ত হয়ে পড়েন। ফলে মাত্র ১০ বছর বয়সেই তিনি বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন এবং নিজের ক্ষতি করতে শুরু করেন। ১৩ বছর বয়সে চিকিৎসকরা তাকে ‘বডি ডিসমরফিক ডিসঅর্ডার’ বা নিজের চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তার রোগে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করেন।
ছয় সপ্তাহের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত জানান, প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের পণ্য ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের পর্যাপ্ত সতর্কবার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। জুরি বোর্ডের ১২ সদস্য একমত হয়েছেন, মেটা ও ইউটিউব তাদের অ্যাপে এমন কিছু প্রযুক্তি বা ‘ফিচার’ ব্যবহার করেছে, যা ব্যবহারকারীকে সারাক্ষণ ফোনের পর্দায় আটকে রাখে। বাদীর আইনজীবীরা একে ‘আসক্তির প্রকৌশল’ বলে অভিহিত করেছেন। তারা জানান, ইউটিউবের ‘অটোপ্লে’ এবং ইনস্টাগ্রামের ‘ইনফিনিট স্ক্রলিং’ ফিচারের কারণে শিশুরা চাইলেও ফোন রেখে অন্য কাজে মন দিতে পারে না। তারা একে নব্বইয়ের দশকের তামাক শিল্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সিগারেট কোম্পানিগুলো যেমন তামাকের ক্ষতিকর দিক জেনেও ব্যবসা চালিয়েছিল, এ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও ঠিক তাই করছে।
মেটার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য একটি জটিল বিষয় এবং এর জন্য কেবল একটি অ্যাপকে দায়ী করা ঠিক নয়। উভয় প্রতিষ্ঠানই এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে মেটা, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ায় আরো ১ হাজার ৬০০টির বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ রায় সেসব মামলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মনে করছে, এ রায়ের ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরো দায়িত্বশীল হতে বাধ্য হবে।










