বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউনের বিধিনিষেধ সত্ত্বেও চা উৎপাদনে সাফল্য পেয়েছে ভারত। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত পানীয় পণ্যটির উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

ভারতীয় চা বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত ভারত ৭৯ কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার কেজি চা উৎপাদন করে। গত বছরের একই সময় উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬৭ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার কেজি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বেড়েছে ১২ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার কেজি। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে দেশটির সব চা-সমৃদ্ধ রাজ্যে উৎপাদন বেড়েছে।

ভারতের উত্তরাঞ্চলে চা উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার কেজিতে। গত বছরের একই সময় এ অঞ্চলে উৎপাদন হয় ৫৩ কোটি ৪৮ লাখ ৭০ হাজার কেজি। এ অঞ্চলেও উৎপাদন ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

ভারতে চা উৎপাদন তালিকায় এ বছরও শীর্ষস্থান ধরে আছে আসাম। রাজ্যটিতে উৎপাদন ২২ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে ৩৭ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার কেজিতে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের একই সময় উৎপাদন হয় ৩০ কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার কেজি। সে হিসাবে উৎপাদন বেড়েছে ৭ কোটি ৬ লাখ ১০ হাজার কেজি।

পশ্চিমবঙ্গে জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত উৎপাদন বেড়েছে ১০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ সময় রাজ্যটিতে ২৩ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। গত বছরের একই সময়ে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২১ কোটি ৮ লাখ ৪০ হাজার কেজি। সে হিসাবে উৎপাদন বেড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার কেজি।

বিশ্ব বিখ্যাত দার্জিলিং চায়ের উৎপাদন বেড়েছে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ অঞ্চলে আগস্ট পর্যন্ত ৪৭ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। গত বছরের একই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৪৪ লাখ ৫০ হাজার কেজি।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে উৎপাদন হয়েছে ১৬ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার কেজি। গত বছরের একই সময় উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৫৮ লাখ ৬০ হাজার কেজি। সে হিসাবে উৎপাদন ১৮ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ২ কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার কেজি বেড়েছে। এর মধ্যে তামিলনাড়ুতে সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয়। এর পরই রয়েছে কেরালা। বছরের বাকি মাসগুলোতেও উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে।