কানাডায় বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) কারখানা বানানোর পরিকল্পনা করছে হোন্ডা মোটর। একই সঙ্গে ওই কারখানায় ব্যাটারিও উৎপাদন হবে। সব মিলিয়ে এ প্রকল্পে খরচ ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে উন্নীত হতে পারে। এটি জাপানি অটোমেকার কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অটোমেকারদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। খবর নিক্কেই এশিয়া।
হোন্ডা কারখানা গড়ে তোলার জন্য এরই মধ্যে সম্ভাব্য কয়েকটি স্থান বাছাই করেছে। এর মধ্যে অন্টারিও প্রদেশের একটি চালু অটোমোবাইল কারখানাও রয়েছে। কোম্পানিটি প্রত্যাশ্যা করছে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ২০২৮ সালের শুরুতে কারখানাগুলোয় কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
হোন্ডা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ইভি এবং ব্যাটারি তৈরির কারখানা গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। ২০২৬ সালে এ কারখানায় কার্যক্রম শুরু হবে। প্রস্তাবিত কানাডিয়ান ইভি কারখানা শেষ পর্যন্ত চালু হলে এটি হবে কোম্পানিটির উত্তর আমেরিকার দ্বিতীয় প্রকল্প।
কানাডা গত মাসে ঘোষণা করেছে ২০৩৫ সালের মধ্যে ডিজেল বা গ্যাসচালিত যানবাহন থেকে বের হয়ে আসবে। দেশটিতে বিপুল নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস রয়েছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলক কম কার্বন নিঃসরণ হয়। এ কারণে কানাডায় ইভি কারখানা বানানোর প্রকল্পটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে হোন্ডা।
হোন্ডার বৈশ্বিক বিক্রয়ের ৪০ শতাংশ যায় উত্তর আমেরিকায়। আগামী ৩১ মার্চে শেষ হওয়া আর্থিক বছরে ১৬ লাখ গাড়ি বিক্রির প্রত্যাশা করছে কোম্পানিটি। তবে এসব গাড়ির অধিকাংশ জ্বালানি তেলচালিত। ২০৩০ সালের মধ্যে হোন্ডা উত্তর আমেরিকায় ৪০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ ইভি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সম্ভাব্য কারখানাগুলো উৎপাদন হাব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ওহাইওতে ২০২৫ সালে হোন্ডার যে কারখানাটি চালু হবে, সেখানে যৌথভাবে অংশীদার হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার এলজি এনার্জি সলিউশন। কিন্তু কানাডায় নিজেই ব্যাটারি তৈরি করতে চাচ্ছে হোন্ডা। কোম্পানিটি একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে।










