২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে বৈশ্বিক তুলা উৎপাদন ও ব্যবহার কমার পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। ভারতে উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও নিম্নমুখী বৈশ্বিক চাহিদার কারণেই মূলত এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
‘কটন: ওয়ার্ল্ড মার্কেট অ্যান্ড ট্রেড’
শীর্ষক এক প্রতিবেদনে ইউএসডিএ জানায়, চলতি মৌসুমে বিশ্বজুড়ে ১১ কোটি ৫৪ লাখ বেল তুলা উৎপাদন হতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় তিন লাখ বেল কম। বৈশ্বিক ব্যবহার পূর্বাভাস আট লাখ বেলেরও বেশি কমানো হয়েছে। এ বছর ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১১ কোটি ৯ লাখ বেল।
ভারত, চীন ও পাকিস্তানের মতো শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশগুলো রয়েছে নানামুখী চ্যালেঞ্জে। মুনাফা মার্জিন ও সুতার ক্রয়াদেশ কমে গেছে। ফলে কটন লিন্ট ক্রয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রক্ষণশীল প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর তুলা উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু নিম্নমুখী বৈশ্বিক চাহিদার কারণে দেশটির রফতানি পূর্বাভাস আড়াই লাখ বেল কমিয়েছে ইউএসডিএ। রফতানির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ বেল। এ বছরও চীন দেশটির শীর্ষ আমদানিকারক দেশের তকমা ধরে রাখবে। যদিও দেশটিতে বিক্রি গত বছরের মতো বাড়বে না। তুলা রফতানির ক্ষেত্রে পাকিস্তানও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজার। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশটির তুলা আমদানি ধীর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তুলার বৈশ্বিক বাজার চলতি বছর ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির চাপে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা। পাকিস্তানে গত বছর ভয়াবহ বন্যায় তুলা উৎপাদন ও বিপণনে বিপর্যয় নেমে আসে। এছাড়া ভারতের তুলা বাণিজ্যে নানামুখী প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব কারণে পণ্যটির বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চীনসহ শীর্ষ অর্থনীতিগুলো করোনার বাধা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। দ্রুত প্রসার ঘটছে পোশাক শিল্প খাতে। এ বছর বিশ্বব্যাপী পোশাক পণ্যের চাহিদায় উল্লম্ফন দেখা দিতে পারে। কিন্তু সে অনুপাতে তুলার সরবরাহ পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয়।
চলতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য আরো এক ধাপ বেড়েছে। বর্তমানে পণ্যটির বাজারদর দুই মাসের সর্বোচ্চে। দাম আরো বাড়লে যাতে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়ানো যায়, সেজন্য ব্যবসায়ীরা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
পাকিস্তান বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ তুলা উৎপাদক দেশ। দেশটি তুলা উৎপাদন নিয়ে বড় ধরনের জটিলতায় পড়েছে। গ্রীষ্মজুড়ে বন্যায় ভেসে যায় পাকিস্তানের বেশির ভাগ তুলা খেত। পরবর্তী সময়ে দাবদাহ দেখা দিলেও বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি খাতটি।
ইউএসডিএ সর্বশেষ ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বার্ষিক তুলা উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়েছে। এর আগের তিন মাসেও পূর্বাভাস কমানো হয়েছিল। সংস্থাটি মনে করছে, চলতি বিপণন মৌসুমে (আগস্ট-জুলাই) পাকিস্তানের তুলা উৎপাদন আগের মৌসুমের তুলনায় ৩৮ শতাংশ কমতে পারে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৭ লাখ বেল (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড)। ৪০ বছরের মধ্যে এটি হতে যাচ্ছে সর্বনিম্ন উৎপাদন। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পাকিস্তানের বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
তুলা উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ভারত। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির হিস্যা ২১ শতাংশ। বাণিজ্য পলিসি দেশটির জন্য প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর ভারত গম, চিনি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের রফতানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। উদ্দেশ্য স্থানীয় সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা। যদিও তুলা এসব বিধিনিষেধের মধ্যে পড়েনি। তবে অনেক বাজার পর্যবেক্ষক মনে করছেন, যেকোনো সময় পণ্যটির ওপরও বিধিনিষেধ আসতে পারে।










