নারায়ণগঞ্জের বৃহত্তম পাইকারি বাজার নিতাইগঞ্জে ডালের দাম নিম্নমুখী। দুই মাসের ব্যবধানে সব ধরনের ডালের দাম কেজিপ্রতি কমেছে ৫-১০ টাকা। তবে পাইকারি বাজারে কমলেও খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলের গুদামে যে ডাল মজুদ আছে তা বেচাকেনা হচ্ছে। তাই দাম কমতির দিকে। সামনে নতুন ডাল আমদানি হলে বাজার পরিস্থিতি বোঝা যাবে। 

নিতাইগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশী মসুর ডাল বেচাকেনা হচ্ছে ১১৭ টাকা কেজি দরে। এক মাস আগেও এ ধরনের ডাল বেচাকেনা হয়েছিল ১২০ টাকা কেজিতে। সে হিসাবে দেশী মসুর ডালের কেজিপ্রতি দাম কমেছে ৩ টাকা। ভারতের দিল্লি সুপার ডাল বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ১২৮ টাকা কেজি দরে। দেড় মাস আগে একই ডাল বেচাকেনা হয়েছিল ১৩২-১৩৪ টাকা কেজি। সে হিসাবে দিল্লি সুপার ডালের দাম কেমেছে কেজিতে ৪-৬ টাকা। মোটা মসুর ডাল পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা কেজি। এক মাস আগেও তা বেচাকেনা হয়েছিল ৯০ টাকা কেজি দরে। সে হিসাবে মোটা মসুর ডালের দাম কমেছে কেজিপ্রতি ৫ টাকা। ফাটি মসুর ডাল বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ৭২ টাকা কেজি দরে। একই ডাল গত মাসেও বিক্রি হয়েছে ৭৮ টাকা কেজি। সে হিসাবে এ ডালের কেজিপ্রতি দাম কমেছে ৬ টাকা। 

খেসারি ডাল বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ৬২ টাকা কেজি দরে। দেড় মাস আগেও একই ডাল বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা কেজি। সে অনুযায়ী ডালটির দাম কমেছে কেজিতে ৮ টাকা। মুগ ডাল বেচাকেনা হচ্ছে ৯৫ টাকা কেজিতে। গত মাসেও ডালটি বিক্রি হয়েছে ১০৫ টাকা কেজি। সে হিসাবে দাম কমেছে ১০ টাকা। চোনা বুট বেচাকেনা হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি, কিছুদিন আগেও যা ছিল ৮০ টাকা। অর্থাৎ চোনা বুটের দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা। 

ডাবলি বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ৫১ টাকা কেজি দরে। একই ডাল মাস খানেক আগেও বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি দরে। সে হিসাবে কেজিতে ৯ টাকা দাম কমেছে ডাবলির। বুটের ডাল বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ৬২ টাকা কেজি দরে, যা কিছুদিন আগেও ৬৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ডালের দাম কেজিপ্রতি কমেছে ৪ টাকা। অ্যাঙ্কর ডাল নিতাইগঞ্জের বাজারে এখন বেচাকেনা হচ্ছে ৫১ টাকা ৫০ পয়সা দরে, এক মাস আগেও যা ৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে অ্যাঙ্করের দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা। 

নিতাইগঞ্জের বাসন্তী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বিপ্লব সাহা বণিক বার্তাকে জানান, দেড়-দুই মাস ধরেই ডালের বাজার নিম্নমুখী। সব ধরনের ডালের দাম কেজিপ্রতি কমেছে ৫-১০ টাকা। বিপ্লব সাহা বলেন, ‘বাজারে চাহিদার তুলনায় ডাল সরবরাহ বেশি থাকায় কিছুটা দাম কমেছে। এছাড়া বাজারে মৌসুমি ফলে সয়লাব। মানুষ এ সময় বেশি বেশি ফল খায়। ফলে প্রতি বছরই এ মৌসুমে ডালের দাম কমতির দিকে থাকে।’ 

পার্বতী ট্রেডার্সের মালিক সজল সাহা বলেন, ‘বাজারে বেশ কিছুদিন ধরেই ডালের দাম নিম্নমুখী। মানুষের আর্থিক অবস্থা নাজুক থাকায় অনেকেই এখন ডাল কম কিনছে। এমনকি দাম কমতির দিকে থাকলেও বাজারে বেচাকেনার অবস্থা খুবই খারাপ।’