চলতি বছর অলিভ অয়েলের উৎপাদন ব্যাপক কমে যাওয়ার পূর্বাভাস এসেছে। গত বছর অতিরিক্তি উৎপাদনের কারণে জলপাই গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাব এক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা রাখবে। সম্প্রতি এক অলিভ অয়েল সেমিনারে এমন পূর্বাভাস উঠে এসেছে। খবর অলিভ অয়েল টাইমস।

গত বছরের বৈশ্বিক অলিভ অয়েল উৎপাদনের ৭২ শতাংশই আসে স্পেন, ইতালি, তিউনিসিয়া, গ্রিস, তুরস্ক, মরক্কো ও পর্তুগাল থেকে। গত চার বিপণন বছরে এ সাত দেশ গড়ে ৮২ শতাংশ অলিভ অয়েল উৎপাদন করেছে।

অলিভ অয়েল টাইমস জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে অলিভ অয়েল উৎপাদনের পরিমাণ গত মৌসুমের ২৯ লাখ ৪০ হাজার টনের নিচে নেমে আসতে পারে। বিশ্বের শীর্ষ সাত অলিভ অয়েল উৎপাদক দেশগুলোর প্রাক্কলন বলছে, চলতি মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ নামতে পারে ১৯ লাখ ৭০ হাজার টনে। ২০১৬-১৭ মৌসুমের পর এটিই অলিভ অয়েলের সর্বনিম্ন উৎপাদন।

তবে অলিভ অয়েল খাতের স্পেনভিত্তিক পরামর্শদাতা জুয়ান ভিলারের মতে, বৈশ্বিক উৎপাদন ২৪ লাখ টনে নেমে যেতে পারে, যা ২০২২-২৩ মৌসুমের তুলনায় ১৮ শতাংশ কম এবং গত চার বিপণন মৌসুমের গড় উৎপাদন থেকে ২৪ শতাংশ কম।

প্রত্যাশা করা হচ্ছে, চলতি বছর স্পেন, ইতালি, তিউনিসিয়া, মরক্কো ও পর্তুগালে উদ্ভিজ্জ তেলটির উৎপাদন ভালো হবে। তবে গ্রিস ও তুরস্কে উৎপাদনের পরিমাণ পূর্বাভাসের চেয়েও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর গ্রিসে উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে। ২০২২-২৩ মৌসুমে ৩ লাখ ৪০ হাজার টন অলিভ অয়েল উৎপাদন হয়েছিল। আর ২০২৩-২৪ মৌসুমে মোট উৎপাদনের পরিমাণ নামতে পারে ১ লাখ ৫০ হাজার টনে।

সেমিনারে ভ্যাসিলিস ফ্রাটজোলাস নামে একজন বিশ্লেষক বলেন, ‘‌গত বছর ব্যাপক ফলন হয়েছিল। কিন্তু সময়মতো জলপাই সংগ্রহ করার মতো শ্রমিক ছিল না। এ কারণে অনেক স্থানে জানুয়ারির পরেও ফল সংগ্রহ অব্যাহত ছিল।’

অলিভ অয়েল খাতে শ্রমিক ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। মেসিনিয়ার এক জলপাইচাষী ও মিল মালিক পাভলোস কাপলানিস বলেন, ‘আগে আমরা আলবেনীয়দের শ্রমিক হিসেবে রাখতাম। এখন তারা অনেক বড় হয়েছে। এখন তারাই নিজেদের এস্টেটের জন্য শ্রমিক খুঁজছে।’

অন্যদিকে গত বছর তুরস্ক রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪ লাখ ২১ হাজার টন অলিভ অয়েল উৎপাদন করলেও এ বছর উৎপাদনের পরিমাণ ব্যাপক কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তুরস্কের জাতীয় অলিভ অ্যান্ড অলিভ অয়েল কাউন্সিলের সভাপতি মোস্তফা তান বলেন, ‘‌চলতি মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ ১ লাখ ৮০ হাজার টনে নেমে আসতে পারে, যা গত বছরের চেয়ে ৫৭ শতাংশ কম।

 আর গত চার বিপণন মৌসুমের গড় উৎপাদনের চেয়ে ৩৩ শতাংশ কম।