বিশেষ করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে। ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তাইওয়ান ও চীনের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির শিল্পগুলো এখন হ্যাকারদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার বরাতে সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যকার সীমান্ত সংঘাত এ ডিজিটাল হামলার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিশ্বব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় সাইবার হামলার হার ১৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় এ বৃদ্ধির হার প্রায় ৭০ শতাংশ।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রতি সপ্তাহে একটি প্রতিষ্ঠানে গড়ে ১ হাজার ৯৬৮টি সাইবার হামলা হয়েছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৭৩ এবং ২০২৩ সালে ছিল ১ হাজার ১৬২। এশিয়ার মধ্যে ভারত এখন সাইবার হামলার অন্যতম বড় শিকার। দেশটিতে শিক্ষা খাতে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৭ হাজার ৬৮৪টি হামলার ঘটনা ঘটছে, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় প্রচুর পরিমাণে ব্যক্তিগত তথ্য এবং গবেষণাসংক্রান্ত নথি থাকে। সাধারণত এসব প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক খুব একটা সুরক্ষিত থাকে না, যা হ্যাকারদের জন্য কাজ সহজ করে দেয়। ভারতে আট বছর বয়স থেকে শিশুদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিক্ষা দেয়ার যে সরকারি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এ সাইবার হামলা সে পরিকল্পনার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে তাইওয়ান ও চীনের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পেও ব্যাপক হামলা হচ্ছে। তাইওয়ানে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৭ হাজার ৩৯৩টি এবং চীনে ৫ হাজার ৬৩১টি সাইবার হামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির সরবরাহ সচল রাখতে এ দুই দেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চেক পয়েন্ট সফটওয়্যারের একজন কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকাররা মূলত প্রযুক্তিগত আধিপত্য বিস্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরির উদ্দেশ্যে এসব হামলা চালায়।
ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীরা বলছেন, শুধু কঠোর নিয়ম করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। সাধারণ মানুষের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ক্রমবর্ধমান এ ডিজিটাল ঝুঁকি মোকাবেলায় শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।










