ইউক্রেনে আগ্রাসী নীতির কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রেতারা রুশ পণ্যের বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এতে আগামী মাস থেকে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও কয়লা রফতানি ধসের মুখে পড়তে পারে। এরই মধ্যে রফতানি প্রবাহ দুর্বল হতে শুরু করেছে। খবর রয়টার্স।
রাশিয়া তার প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে হামলা চালানোয় পশ্চিমা কোম্পানিগুলো দেশটি থেকে তাদের বিনিয়োগ উঠিয়ে নিচ্ছে। এরই মধ্যে বেশকিছু কোম্পানি রুশ জ্বালানি পণ্য ক্রয় লক্ষণীয় মাত্রায় কমিয়ে এনেছে। অনেকে আবার ক্রয় পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে। বিশ্লেষকরা জানান, রুশ অর্থনীতির প্রধান অবলম্বন জ্বালানি পণ্য। এসব পণ্যের রফতানি ব্যাহত হলে তা দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি বয়ে আনবে।
তথ্য বলছে, পশ্চিমা দেশগুলো এখনো রাশিয়ার জ্বালানি পণ্যের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। কিন্তু দেশটির অর্থ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে পণ্য রফতানিতে। নিষেধাজ্ঞার কারণে কোম্পানিগুলো বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে। জাহাজমালিকরা রুশ বন্দরগুলো থেকে পণ্য বোঝাইয়ে অনীহা প্রকাশ করছেন। সুইফট ব্লকসহ বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞায় জটিলতা দেখা দিয়েছে অর্থ ও বীমা ব্যবস্থায়। এসব কারণে ক্রেতারা রাশিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এ প্রতিবন্ধকতাকে পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা বলেই বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী মাস থেকে এটির ভয়াবহ প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠবে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া স্থল, জল ও আকাশপথে ইউক্রেনে হামলা করে। এ হামলার আগেই মার্চে সরবরাহের জন্য সবগুল রফতানি কার্গো প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা এসব কার্গোর গন্তব্যে পৌঁছনোকে হুমকির মুখে ফেলে। এরই মধ্যে রফতানিতে শ্লথগতি দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হয়েছে কয়লা রফতানি।
সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভের দেয়া তথ্য বলছে, মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে রাশিয়া ইউরোপের বাজারে ১১ লাখ ৬০ হাজার টন কয়লা রফতানি করে। অথচ ফেব্রুয়ারিতে ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ও জানুয়ারিতে ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টন কয়লা রফতানি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে এশিয়ার বাজারে রাশিয়ার কয়লা রফতানি কমেছে ব্যাপক হারে। রেফিনিটিভের তথ্য বলছে, এ সময় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রাশিয়া ১৮ লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা রফতানি করেছে। তবে বর্তমানে কোনো কার্গো রফতানির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে না। ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া এশিয়ার বাজারে ৬১ লাখ ৬০ হাজার টন ও জানুয়ারিতে ৪৮ লাখ ৮০ হাজার টন কয়লা রফতানি করেছিল। এ সময় চীন ছিল সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
রাশিয়ার কয়লা রফতানিতে ধস নামলে তাতে ভারসাম্য আনতে পারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল। তবে এ পণ্যের রফতানিও নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে দেশটি এশিয়ার বাজারে দৈনিক ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করেছে। ফেব্রুয়ারিতে রফতানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ৩ কোটি ২০ হাজার ব্যারেল। জানুয়ারিতে রফতানি করা হয় দৈনিক ৩ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল।
অন্যদিকে ইউক্রেনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি এরই মধ্যে কমেছে। মার্চে সম্ভাব্য রফতানি দাঁড়াতে পারে দৈনিক ২ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় কমেছে ৬ কোটি ৯২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। জানুয়ারির তুলনায় কমেছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল।
একই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ছে এলএনজি রফতানিতেও। মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে রাশিয়া এশিয়ার বাজারে ৪ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি এশিয়ায় সরবরাহ করেছে। বর্তমানে আর কোনো কার্গো এশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে না। অথচ ফেব্রুয়ারিতে পণ্যটির রফতানির পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৩৩ হাজার টন। জানুয়ারিতে ১১ লাখ ৫০ হাজার টন রফতানি করা হয়েছে। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ইউরোপে রফতানি করা হয়েছে ৬ লাখ ২৩ হাজার টন। অথচ ফেব্রুয়ারিতে ১৩ লাখ ২০ হাজার ও জানুয়ারিতে ১৫ লাখ ৩০ হাজার টন রফতানি করা হয়েছিল।










