যুক্তরাজ্যে বাড়ির দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেশনওয়াইড। দীর্ঘ মন্থর চাহিদার পর বাড়ির দাম বাড়াকে দেশটির আবাসন বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর ইউরো নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষকদের দেয়া পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। মূলত নিম্ন মর্টগেজ রেট ও মূল্যস্ফীতির চাপ কমায় বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতার আস্থা ফিরে এসেছে। ঋণদাতারা বলছেন, এ খাতে খরচ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ জানুয়ারিতে বাড়ির গড় দাম ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৫৬ পাউন্ড থেকে বেড়ে ২ লাখ ৬০ হাজার ৪২০ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান এডিনবার্গ মর্টগেজ অ্যাডভাইজের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক ডায়াসন বিষয়টিকে ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন। আবাসন বাজার পুনরুত্থানের বিষয়ে তিনি জানান, আবাসন খাতের কার্যক্রম ও দাম বাড়ায় আগের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। সুদহার কমে আসা ও ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসায় এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
অনেকেই বলছেন, বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যে মর্টগেজ রেট কমে আসার কারণে ক্রেতারা বাজারে ফিরে আসছেন। যদিও এখনো ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদহার ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে রেখেছে। তবে ২০২৩ সালে মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসায় সম্ভাব্য সুদহার কমানোর প্রত্যাশা করেছিলেন ঋণদাতারা।
মর্টগেজ রেট কমার পাশাপাশি ক্রেতার চাহিদা বাড়াতে প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধিও বড় একটি অবদান রেখেছে। এছাড়া বেকারত্বের হার কমে আসার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে নতুন প্রপার্টির সীমিত সরবরাহ আবাসন খাতে চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করেছে।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, আবাসন খাতের জন্য সংকট এখনো অনেকটাই রয়ে গেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান হারগ্রিভস ল্যানসডাউনের পারসোনাল ফাইন্যান্সের প্রধান সারাহ কোলস জানান, জানুয়ারিতে মর্টগেজ রেট কমলেও আবাসন খাতে তার প্রভাব খুব সীমিত হবে। কারণ ফেব্রুয়ারিতে ফের মর্টগেজ রেট বেড়েছে।
আবাসন খাতে অব্যাহত চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও গত বছরের তুলনায় ইতিবাচক রয়েছে। যুক্তরাজ্যে দুই বছর মেয়াদি মর্টগেজ রেট গত গ্রীষ্মে ৬ শতাংশের ওপরে পৌঁছে, যা ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর সর্বোচ্চ রেট। এর বিপরীতে নতুন মর্টগেজ অনুমোদনগুলো জানুয়ারিতে ২০২২ সালের অক্টোবরের পর থেকে তাদের সর্বোচ্চ স্তরে বেড়েছে, যা ক্রেতাদের বর্ধিত ক্রয়ক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
আর্থিক বিশ্লেষণী ওয়েবসাইট নার্ডওয়ালেট ইউকের কর্মকর্তা এমি নাইট জানান, গত এক বছর আবাসন খাতে কোনো প্রবৃদ্ধি ছিল না। তাই বাড়ির দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। পাশাপাশি হাউজিং মার্কেটে আসন্ন বাজেটের প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তিনি। বিশেষ করে নতুন মর্টগেজ স্কিম সম্পর্কে গুজব অনেক ক্রেতাকেই টিভি বা রেডিওতে বাজেট শুনতে আগ্রহী করে তুলবে। এ পদক্ষেপ আরো বেশি মানুষকে তাদের প্রথম বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। যদিও সাশ্রয়ী মূল্যের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে এখনো কিছু উদ্বেগ রয়ে গেছে।










