আন্তর্জাতিক রফতানি বাজারে চলতি সপ্তাহে ভারতীয় চালের দাম বেড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চালের সংকুচিত সরবরাহ এবং সরকার নির্ধারিত দাম বাড়ানোর উদ্যোগ এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। তবে নিম্নমুখী চাহিদার কারণে থাই চালের দাম কমেছে। খবর রয়টার্স।
ভারত চলতি সপ্তাহে প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল ৩৮৮-৩৯৫ ডলারে রফতানি করেছে। গত সপ্তাহে রফতানি হয়েছিল ৩৭৫-৩৮০ ডলারে।
ভারতে ধান-চাল সংগ্রহের নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে। এ মৌসুমে কৃষকদের থেকে সংগ্রহের জন্য প্রতি কেজি চালের দাম ৭ শতাংশ বাড়িয়ে ২ হাজার ১৮৩ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে।
চাল রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান সত্যম বালাজির নির্বাহী পরিচালক হিমাংশু আগারওয়াল বলেন, ‘স্থানীয় বাজারে এক মাসে ধানের দাম বেড়েছে। ফলে চালের দামও বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি রফতানি মূল্যকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে।’
বাংলাদেশ বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ভারতের কাছ থেকে ৬ লাখ ৩৪ হাজার টন চাল আমদানি করেছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানায়। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই আমদানির মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে। তবে আগামী বছর আমদানির প্রয়োজন পড়বে না বলে জানিয়েছে এ মন্ত্রণালয়।
এদিকে থাইল্যান্ড চলতি সপ্তাহে প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল ৪৯০-৪৯৫ ডলারে রফতানি করছে। আগের সপ্তাহে রফতানি হয়েছিল ৪৯৫ ডলারে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কিছুটা কমেছে।
ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, থাই চালের চাহিদা নিম্নমুখী বা কিছুটা অপরিবর্তিত। আগামী মাসে ধান তোলা শুরু হলে বাজারে চালের অতিরিক্ত সরবরাহ আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, আফ্রিকার দেশগুলোয় বর্তমানে চাহিদা নেই বললেই চলে। কারণ ভারতীয় চালের চেয়ে থাই চালের দাম বেশি। এ কারণে আফ্রিকার ক্রেতারা ভারতের কাছ থেকেই চাল কেনার পরিমাণ বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকরা জানান, খরা ও ইন্দোনেশিয়ায় রফতানি চাহিদা না থাকলে থাই চালের দাম আরো কমে যেত।
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভিয়েতনামের চাল রফতানি দাঁড়িয়েছে ৪০ লাখ টনে। একই সময় থাইল্যান্ড রফতানি করেছে ৩৪ লাখ টন। ভিয়েতনাম বছর শেষে ৭৫ লাখ টন চাল রফতানি করতে পারে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দেশটির রফতানি কিছুটা কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা থাইল্যান্ডের জন্য আশীর্বাদ। এ বছর থাইল্যান্ড ৮০ লাখ টনের বেশি চাল রফতানি করতে পারে, যা দেশটির লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ বছর ৭৫ লাখ টন চাল রফতানির পরিকল্পনা রয়েছে থাইল্যান্ডের।
চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে চাল রফতানি নিয়ে আশাবাদী থাইল্যান্ড। কারণ খরার উদ্বেগে ক্রেতা দেশগুলো মজুদ বাড়াতে উদ্যোগী হয়ে উঠেছে। এ লক্ষ্যে আমদানি বাড়াচ্ছে এসব দেশ। থাই রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এখনই আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। এল নিনো বা খরা পরিস্থিতি চাল উৎপাদনে কতটা প্রভাব ফেলবে তার ওপর নির্ভর করছে রফতানি। মূলত জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ওপর উৎপাদন পরিস্থিতি নির্ভর করছে। উৎপাদন নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। কারণ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ বছর স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এদিকে চলতি সপ্তাহে ভিয়েতনাম প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা চাল ৪৯০-৪৯৫ ডলারে রফতানি করছে। আগের সপ্তাহেও একই দামে রফতানি করা হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা কৃষকদের থেকে চাল কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। উদ্দেশ্য যথাসময়ে চুক্তীকৃত চাল আমদানিকারক দেশগুলোয় সরবরাহ করা।










