বাই নাউ, পে লেটার (এখন কিনুন, পরে মূল্য পরিশোধ করুন) মূলত এক ধরনের স্বল্পমেয়াদি পেমেন্ট পদ্ধতি, যা ভোক্তাকে তাৎক্ষণিক কেনাকাটা ও পরে ধীরে ধীরে সে অর্থ পরিশোধ করার সুযোগ দেয়। সাধারণত এ ধরনের পেমেন্ট পদ্ধতি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোনো প্রকার সুদ ছাড়াই অর্থ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে থাকে। সম্প্রতি মার্কেটওয়াচ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ছুটির মৌসুমে (ক্রিসমাস ও নিউ ইয়ার) যুক্তরাষ্ট্রে কেনাকাটার ক্ষেত্রে এ পেমেন্ট পদ্ধতি নতুন রেকর্ড গড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা এ পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে ১ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার খরচ করেছে, যা গত বছরের ছুটির মৌসুমের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। এছাড়া ২০২৩ সালে মোট ‘বাই নাউ, পে লেটার’ পেমেন্ট পদ্ধতি খরচ ১৪ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যানগুলো পেমেন্ট পদ্ধতির জন্য সুসংবাদ হলেও কিছু অর্থনীতিবিদ এ পেমেন্ট পদ্ধতির বিষয়ে এখনো সন্দিহান রয়েছেন। অর্থনীতিবিদরা বাই নাউ, পে লেটার পেমেন্ট খাতের সম্পূর্ণ আকার ও ব্যবহারকারীদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে অস্পষ্টতা নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ পেমেন্ট পদ্ধতি ক্রেতাদের মধ্যে ঋণ প্রবণতা আরো বাড়িয়ে তুলছে। এ কারণে অনেকে একে ‘ফ্যান্টম (ছদ্মবেশি) ঋণ’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন।
এ পেমেন্ট সেবা ক্রেতাদের সুদ ছাড়া কিস্তিতে কেনাকাটাকে সুযোগ করে দেয়। এ কারণে এটি এখন তরুণ ও নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে ক্রেতারা সাধারণত চার থেকে ছয় সপ্তাহের সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধের সুযোগ পায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থ পরিশোধে সুযোগ দেয়া হয়ে থাকে।
ওয়েলস ফার্গো ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ টিম কুইনলান জানান, ‘বাই নাউ, পে লেটার’ পেমেন্ট পদ্ধতিতে ক্রেতাদের খরচ বছরে ১৪ শতাংশ বেড়েছে, যা থেকে বোঝা যায় এ পদ্ধতি দিন দিন ক্রেতাদের কাছে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
কুইনলান ও ওয়েলস ফার্গো ইকোনমিক্সের অর্থনীতিবিদ শ্যানন সিরি গ্রিন সম্প্রতি এ পেমেন্ট পদ্ধতিকে ‘ফ্যান্টম ঋণ’ নামে অভিহিত করেছেন। তিনি আরো জানান, এখনো এ পেমেন্ট পদ্ধতি কী পরিমাণ মানুষ কীভাবে ব্যবহার করছে, সে সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তাই সঠিকভাবে বলা কঠিন যে কীভাবে এ ধরনের ঋণ আগামীতে ক্রেতা এবং অর্থনীতির ওপর প্রভাব রাখবে।
বাই নাউ, পে লেটার পেমেন্ট পদ্ধতির কারণে ক্রেতাদের আরো ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। তবে অর্থনীতিবিদরা চিন্তিত, এতে ক্রেতা ও ভোক্তার মধ্যে অতিরিক্ত খরচের প্রবণতা বাড়তে পারে। সেজন্য এ পদ্ধতির ওপর নীতিনির্ধারকদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।










