বৈশ্বিক মন্দার শঙ্কা এবং আগামী সপ্তাহে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনার মধ্যে গতকাল বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। দ্য ন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৯৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি মজুদকৃত জ্বালানি তেল বাজারে সরবরাহের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এতে গত বৃহস্পতিবার জ্বালানি তেলের দরপতন হয় ৩ শতাংশের বেশি। গত জুনের শুরুর দিকের তুলনায় জ্বালানি তেলের দাম ২০ শতাংশেরও নিচে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং শক্তিশালী ডলারের কারণে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস পায়। কিন্তু বৈশ্বিক মন্দা নিয়ে আশঙ্কা প্রশমিত না হওয়ায় শুক্রবার ফের জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য কমার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশ চীনে জ্বালানি তেলের চাহিদা হ্রাস। পাশাপাশি বাজারে ডলারের মূল্য স্থিতিশীল থাকা এবং ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বাজারে আসার সম্ভাবনাও এতে ভূমিকা রেখেছিল।
আগস্টের শেষের দিকে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ অঞ্চলেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের মূল্য কমেছে। এমিরেটস এনবিডির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চল (মেনা) অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল রিচার্ডস বলেন, ওপেক মহাসচিব কর্তৃক বাজার বিষয়ে সতর্ক করা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা বেড়েছে। ফলে বাজারে আবারো অস্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। গত মাসে ব্লুমবার্গে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ওপেক মহাসচিব হাইথাম আল গাইস বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ আশঙ্কাজনক হারে কমার আভাস মিলছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের শীর্ষ আমদানিকারক দেশ চীন। দেশটির সরকার গত সপ্তাহে ঋণের হার কমিয়েছে। তবু জুলাইয়ে দেশটির অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে ধীরগতি হয়েছে। কভিড-১৯ মহামারীতে বেইজিংয়ের জিরো কভিড নীতির কারণে দেশটির কারখানা এবং খুচরা বিক্রি কমার কারণে এমনটি হয়েছে।
অ্যাভাট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক নাঈম আসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস অর্থনীতির ধীর প্রবৃদ্ধি জ্বালানি তেলের মূল্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তারা চীনের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত আছেন। এছাড়া দক্ষিণ পশ্চিম সিচুয়ান প্রদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত করার কারণে কিছু অঞ্চলে বিদ্যুতের বিধিনিষেধ অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাবিত করবে। পাশাপাশি ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বাজারে আসার সম্ভাবনার বিষয়েও অবগত রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা গত মাসে জানান, ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু চুক্তি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া অবলোকন করেছে এবং ইইউ চুক্তিটি পুনরায় চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে। চুক্তিটি ইরানকে বাজারে আরো জ্বালানি তেল বাড়াতে সহায়তা করবে। এতে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট সরবরাহ সংকট নিরসনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফেডের পরবর্তী সভা ২০-২১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই সভায় টানা তৃতীয়বারের মতো সুদহার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।










