ইউক্রেনে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৫০ লাখ টন শস্য ও তৈলবীজ আহরণ করেছে। শুক্রবার দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে একই সময়ে গম রফতানির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। খবর আর্গাস মিডিয়া ও হেলেনিক শিপিং নিউজ।
ট্রেডিং প্লাটফর্ম এক্সএমের তথ্যানুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনের কৃষকরা মোট ৯৫ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমি থেকে শস্য ও তৈলবীজ আহরণের কাজ সম্পন্ন করেছেন। এর মাধ্যমে ২ কোটি ৯১ লাখ টন বিভিন্ন ধরনের শস্য এবং ৫৮ লাখ টন তৈলবীজ সংগ্রহ করেছেন তারা। সংগৃহীত শস্য ও তেলবীজের মধ্যে ২ কোটি ১৯ লাখ টন গম, ৫৫ লাখ টন বার্লি, ৪ লাখ ৫৮ হাজার টন ভুট্টা ও ৩৪ লাখ টন রেপসিড রয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে গত বছরের সঙ্গে তুলনামূলক তথ্য দেয়া হয়নি। তবে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩ কোটি ৩৭ লাখ শস্য আহরণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ২ কোটি ২১ লাখ টন গম, ৫৮ লাখ টন বার্লি ও ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৫৪০ টন মটরশুঁটি। পাশাপাশি অন্যান্য শস্যও সামান্য পরিমাণে আহরণ সম্পন্ন হয়েছিল।
মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৪ সালে প্রায় আড়াই কোটি টন ভুট্টা উৎপাদন হতে পারে। একই সময়ে গম উৎপাদন হতে পারে ২ কোটি ১৮ লাখ টন।
২০২৪ সালের শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে ইউক্রেন। এর আগে দেশটিতে চলতি বছর ৫ কোটি ২৪ লাখ টন শস্য উৎপাদন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। পরে তা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি ৬০ লাখ টনে উন্নীত করা হয়েছে। তৈলবীজসহ এ পরিমাণ ৭ কোটি ৭০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।
সম্প্রতি ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা ২০২৪-২৫ বিপণনবর্ষে গম রফতানির সীমা নির্ধারণে সম্মত হয়েছে। সম্প্রতি সরকার ও রফতানিকারকরা গম রফতানি সীমাসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সম্মত হয়। এ অনুসারে চলতি বিপণনবর্ষে ইউক্রেন থেকে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৬২ লাখ টন গম রফতানি করা হবে। যেকোনো মানের গম এর আওতাভুক্ত হবে। রফতানির নির্ধারিত সীমা মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বিপণনবর্ষে ইউক্রেন ১ কোটি ৪০ লাখ টন গম রফতানি করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল ইউএসডিএ।
চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষই প্রতি মাসের রফতানির পরিমাণ তত্ত্বাবধান করবে। প্রয়োজনে আগামী বছরের জানুয়ারি নাগাদ রফতানি সীমা সংশোধনের সুযোগও রাখা হয়েছে।
এর আগে ইউক্রেনের মিল মালিকরা ১১ শতাংশ ও তার বেশি প্রোটিনযুক্ত গম রফতানির সীমা ৪৬ লাখ টনে নির্ধারণ করতে মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করেছিল। তারা জানিয়েছিল, চলতি বছর উৎপাদিত গমের ৩০ শতাংশ মেইলিং এবং ৭০ শতাংশ ফিড গ্রেডের। তবে ব্যবসায়ীদের অন্য একটি অংশ ও রফতানিকারকরা জানান, এ বছর উভয় ধরনের গমই সমান অনুপাতে উৎপাদন হয়েছে। প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীণ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউক্রেন ২০১১ সাল থেকে রফতানির সীমা প্রবর্তন শুরু করেছে।










