ওপেকের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন গত মাসে কমেছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী সৌদি আরবসহ সদস্য দেশগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় এমনটি ঘটেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য দেশের উত্তোলন কমলেও ইরাক ও নাইজেরিয়ার উত্তোলন বেড়েছে। দেশ দুটির উত্তোলন না বাড়লে জোটের সার্বিক উত্তোলন আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার আশঙ্কায় কয়েক মাস ধরেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমাচ্ছে রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক। তার ওপর কিছু দেশ জোটের সঙ্গে চুক্তি বাইরে এককভাবেও উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য বাজার নিয়ন্ত্রণ।
এক সমীক্ষায় রয়টার্স জানায়, ওপেকের সদস্য দেশগুলো গত মাসে দৈনিক ২ কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে। মে মাসের তুলনায় দৈনিক উত্তোলন কমেছে ৫০ হাজার ব্যারেল করে। এছাড়া মে মাসে উত্তোলন দৈনিক ২ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে করে কমেছিল।
বাজার নিয়ন্ত্রণে ওপেকের অন্যতম শীর্ষ সদস্য দেশ সৌদি আরব এককভাবে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির এ সিদ্ধান্তে বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজার। উত্তোলন কমানোর এ সিদ্ধান্ত জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছে দেশটি।
ওপেক ও ওপেক প্লাসের সদস্য দেশগুলো গত বছরের শেষ দিক থেকেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর নীতি অনুসরণ করে আসছে। চলতি বছরের এপ্রিলে রাশিয়াসহ কিছু সদস্য দেশ এককভাবে উত্তোলন আরো কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। মে মাসে ওপেকের ছয় সদস্য দেশ দৈনিক উত্তোলন আরো ১০ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল করে কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। জুন পর্যন্ত উত্তোলন কমানোর এ সিদ্ধান্ত বহাল ছিল।
ওপেক গত মাসেও উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল কম উত্তোলন হয়েছে। নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলায় বিনিয়োগ স্বল্পতার কারণে উত্তোলন সক্ষমতা কমেছে। এ কারণেই প্রতি মাসেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে জোটটি।
ওপেকের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব সবচেয়ে বড় পরিসরে উত্তোলন কমিয়েছে। দেশটি গত মাসে দৈনিক ৪০ হাজার ব্যারেল করে উত্তোলন কমাতে সক্ষম হয়। উত্তোলন সর্বাধিক কমেছে ইরানে। দেশটি গত মাসে দৈনিক ৫০ হাজার ব্যারেল করে উত্তোলন কমাতে সক্ষম হয়।










