দেশে ব্যবসা সহজীকরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে শিল্প স্থাপন ও পরিচালনায় প্রশাসনিক জটিলতা দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিল্প উদ্যোক্তা ও মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, গ্যাস-সংযোগ, বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন, অবকাঠামো নির্মাণ, বিদেশী ঋণের শর্ত পূরণ এবং নানা ধরনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে উদ্যোক্তারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। এতে নতুন বিনিয়োগ যেমন নিরুৎসাহিত হচ্ছে, তেমনি বিদ্যমান শিল্পও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল। কনক্লেভটির আয়োজন করে বণিক বার্তা।
মোস্তফা কামাল বলেন, সরকার ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের কথা বললেও বাস্তবে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে সেবা পাওয়া আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে বলা হয়েছিল, বিভিন্ন অনুমোদনের ধাপ কমিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বলছে, বাস্তবে জটিলতা কমার বদলে বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের ১৫টি প্রতিষ্ঠান আমার অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।’
মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, তার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি), বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ রয়েছে। কিন্তু গ্যাস-সংযোগ না পাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। দেশীয় ব্যাংকের ঋণ হলে সময় বাড়ানোর সুযোগ থাকত, কিন্তু আন্তর্জাতিক ঋণের ক্ষেত্রে সে সুযোগ নেই। ফলে প্রকল্প বিলম্বিত হওয়ায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছেন।
তিনি বলেন, তার ৫৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। একটি বড় প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে অন্য প্রকল্পগুলোও সংকটে পড়বে। সংযোগ পাওয়ার পরও ট্রায়াল রান সম্পন্ন করতে সময় ও অতিরিক্ত ব্যয় প্রয়োজন হয়। অথচ বিদেশি প্রযুক্তিবিদদের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এ শিল্প উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, মামলা কিংবা অন্যান্য বিষয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেখে প্রশ্ন তোলেন। অনেক সময় পণ্যের মান নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো মামলা হলেও সেটির ব্যাখ্যা বিদেশি অংশীদারদের কাছে দিতে হয়। যদিও প্রতিটি পণ্য নিয়মিতভাবে বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার পরীক্ষার মাধ্যমে বাজারে আসে।
মোস্তফা কামাল বলেন, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন চিনি বাজারে সরবরাহ করছে। তারপরও বাজারের কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে তার দায়ও উদ্যোক্তাদের ওপর এসে পড়ে। সবশেষে তিনি বলেন, এত বাধা-বিপত্তির পরও উদ্যোক্তারা শিল্প গড়ে তুলছেন। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে।










