রফতানিতে শুল্কহার কমানোর পর ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভারতে আকরিক লোহার রফতানি সাত গুণ বেড়েছে। গত মাসে দেশটি থেকে প্রায় ২২ লাখ ৫৯ হাজার টন আকরিক লোহা রফতানি করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে তৃতীয় সর্বোচ্চ রফতানি। খবর দ্য হিন্দু বিজনেসলাইন।

বাণিজ্য তথ্যানুযায়ী, বছরওয়ারি হিসাবে রফতানি বেড়েছে প্রায় ৫০০ শতাংশ। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টিলমিন্ট শোর তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ৩ লাখ ৮০ হাজার টন আকরিক লোহা রফতানি করা হয়েছিল। ২০২২ সালের এপ্রিলের পর ডিসেম্বরে রফতানি ভালো অবস্থানে ফিরে আসে। এপ্রিলে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ ৫০ হাজার টন। মে মাসে তা ২৭ লাখ টনে নেমে আসে।

পণ্যের অস্থিতিশীল বাজার, চীনে কভিড-১৯-এর সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধ এবং ভারতে উচ্চমানের আকরিক লোহার পাশাপাশি ইস্পাত তৈরির উপাদানে শুল্ক আরোপের কারণে মে মাসে চাহিদা কমে যায়। স্টিলমিন্টের তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, জুন মাসে ৩ লাখ ১০ হাজার টন, জুলাইয়ে ৫ লাখ, আগস্টে ৪ লাখ ১০ হাজার টন আকরিক লোহা রফতানি করা হয়। সেপ্টেম্বরে রফতানি শূন্যে নেমে আসে। অক্টোবরে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ও নভেম্বরে ৩ লাখ টন লোহা রফতানি করা হয়।

বাণিজ্যসংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, ১৯ নভেম্বর থেকে রফতানি শুল্ক প্রত্যাহারের পর থেকে আকরিক লোহার রফতানি ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। একটি সূত্র জানায়, বন্দরে অনেক কার্গো মজুদ ছিল। শুল্কহার প্রত্যাহারের পর রফতানি বাড়তে থাকে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে ডিসেম্বরেই সবচেয়ে ভালো রফতানি হয়েছে। সামনেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আকরিক লোহা রফতানি ৬৪ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৫৩৯ কোটি রুপিতে নেমে আসে। যেখানে এক বছর আগে ১৮ হাজার ২৬০ কোটি রুপি মূল্যের লোহা রফতানি করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ১ হাজার ২৯৩ কোটি রুপি মূল্যের আকরিক লোহা রফতানি করা হয়েছে, যা ২০২১ সালের ৪১৪ কোটি রুপির তুলনায় ২১২ শতাংশ বেশি।