ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অঞ্চলে প্রধান তিনটি তেলবীজ উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস মিলেছে। এ তিনটি তেলবীজের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে সরিষা, সূর্যমুখী এবং সয়াবিন তেলবীজের মোট উৎপাদন ৩ কোটি ১১ লাখ টনে উন্নীত হবে। এর আগের বিপণন মৌসুমে ছিল ৩ কোটি ২ লাখ টন। সে হিসেবে উৎপাদন ৩ শতাংশ বাড়বে। ১ কোটি ১৭ লাখ হেক্টর জমিতে এসব তেলবীজ আবাদ হবে। আগের বছর আবাদ হয়েছিল ১ কোটি ৬ লাখ হেক্টর জমিতে।

এর মধ্যে সয়াবিন আবাদ ১১ দশমিক ১ শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ। পাশাপাশি সূর্যমুখী তেলবীজ আবাদ ১০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সরিষা তেলবীজ আবাদ ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়বে।

সূর্যমুখী এবং সয়াবিন তেলবীজ উৎপাদনের আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধিতে রেকর্ড হয়েছে। এদিকে ২০১৯ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমার পর প্রথমবারের মতো সরিষা তেলবীজের আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পণ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের কারণে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে রফতানি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো আবাদ ও উৎপাদন বাড়ানোর জোর প্রয়াস চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ।

ইইউভুক্ত দেশগুলোর তেলবীজের প্রাপ্যতা বেড়েছে। এ দেশগুলোয় সূর্যমুখী ও সয়াবিন তেলবীজের মাড়াই মার্জিনও ভালো। ফলে সব ধরনের তেলবীজের মাড়াই কার্যক্রম বাড়ছে।

ইউএসডিএ জানায়, পশুখাদ্য তৈরিতে সয়ামিলের ব্যবহার বাড়বে। ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমের প্রথমার্ধে পশুখাদ্য উৎপাদনে সূর্যমুখী মিলের ব্যবহারও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবহার ১ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পাবে।

এদিকে রান্নার কাজেও সয়াবিন তেলের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সূর্যমুখী তেলের ঘাটতি দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অন্যান্য উদ্ভিজ্জ তেল এ জায়গা দখলে নেবে।

তবে শিল্প-কারখানায় সয়াবিন তেলের ব্যবহার কমতে পারে। এদিকে অভ্যন্তরীণভাবে সরিষা তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে এটির ব্যবহারও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।