আর্জেন্টিনায় সয়াবিন উৎপাদন কমার পূর্বাভাস মিলেছে। দেশটিতে লা নিনার প্রভাবে শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় উৎপাদনে নিম্নমুখিতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উৎপাদন রেকর্ড সর্বনিম্নে নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস কর্তৃক প্রকাশিত গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে আর্জেন্টিনায় ৪ কোটি ৫০ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদন হবে। পূূর্বাভাস সত্য হলে এটি হবে চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন উৎপাদন। এর আগে ২০১৭-১৮ মৌসুমে উৎপাদন সর্বনিম্ন ৩ কোটি ৭৮ লাখ টনে নেমে গিয়েছিল।
ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝিতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত কিছুটা আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর ও এ বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে খরার ভয়াবহতার কারণে প্রধান প্রধান অঞ্চলে সয়াবিনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কমেছে জমির আর্দ্রতার পরিমাণও। ফলে স্বল্প সময়ের বৃষ্টিপাত এ ক্ষতি পোষাতে পারেনি।
এদিকে প্রতিবেশী দেশ প্যারাগুয়েতেও সয়াবিন উৎপাদনে খরার প্রভাব পড়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে আর্জেন্টিনার সয়াবিন আমদানিও সীমিত হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী আমদানি দাঁড়াবে ২২ লাখ টনে, যা গত বছরের মোট আমদানির অর্ধেকেরও কম।
শুধু তাই নয়, নিম্নমুখী থাকবে রফতানিও। স্বল্প উৎপাদন, সরবরাহ চেইনে সংকটসহ নানা জটিলতার কারণে রফতানি ৩০ লাখ টনে নামতে পারে। আগের পূর্বাভাসে ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস ৩৭ লাখ টন রফতানির কথা জানিয়েছিল। এমনকি গত ১০ বছরের গড় রফতানির চেয়ে এবার রফতানিপ্রবাহ কমবে।
তবে এ পূর্বাভাস মিলে গেলেও চলতি মৌসুমেও সয়াবিন উৎপাদনে তৃতীয় ও রফতানিতে শীর্ষ পঞ্চম স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে আর্জেন্টিনা।










