মালয়েশিয়ায় চার মাসের মধ্যে মে মাসে প্রথমবারের মতো বেড়েছে পাম অয়েলের মজুদ। পণ্যটির উৎপাদন রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার প্রভাবে মজুদ বাড়ল। দেশটির ন্যাশনাল পাম অয়েল বোর্ড সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়েশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক। দেশটিতে গত মাসে পণ্যটির মজুদ ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার টনে।
মে মাসে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ২০ হাজার টনে। গত বছরের ডিসেম্বরের পর এটিই সর্বোচ্চ উৎপাদন। বেশি সময় ধরে পাম সংগ্রহ ও শ্রমিক সংকট প্রশমিত হয়ে আসায় উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।
করোনা মহামারী শুরুর পর মালয়েশিয়ায় তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছিল। ফলে পাম বাগানগুলো প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এ বছর সে সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে মালয়েশিয়া। শ্রমিক ফিরতে শুরু করায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে পাম ফল সংগ্রহের কাজ। বিষয়টি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সম্ভাব্য উৎপাদন বাড়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পাম অয়েল রফতানি নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে মালয়েশিয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। ফলে গত মাসে দেশটির রফতানি দশমিক ৭৮ শতাংশ কমেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার টনে।
পাম অয়েলের মজুদ ও সরবরাহ প্রত্যাশার চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় নিম্নমুখী চাপের মধ্যে পড়তে পারে মালয়েশিয়ার বাজার আদর্শ দাম।
আইওআই কর্প প্লান্টেশনের পরিচালক সাধুকরন নোট্টাহ ভাস্কারান বলেন, ‘বাগানগুলোয় শ্রমিক ফিরতে শুরু করায় ফল সংগ্রহের হার বেড়েছে। ভালো মানের তেল নিষ্কাশন অপরিশোধিত পাম অয়েলের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। দুই বছর ধরে ভালো বৃষ্টিপাতের প্রভাবে পাম ফলের গঠনও ভালো হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পাম অয়েল উৎপাদন এখন থেকেই বাড়ছে। আগামী আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর নাগাদ উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। এ বছর বেশ ভালো উৎপাদনের প্রত্যাশা করছি আমরা। বৈশ্বিক পাম অয়েল উৎপাদনের ২০ শতাংশই আসে মালয়েশিয়া দেশটি থেকে। খাদ্য থেকে কসমেটিকস সব ধরনের পণ্যই তৈরি হয় এটি থেকে। করোনার আগে দেশটির বেশির ভাগ পাম বাগানই ছিল বিদেশী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে শ্রমিক সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। সে সংকট থেকে এখনো পুরোপুরি উতরে উঠতে পারেনি দেশটি। উপদ্বীপীয় মালয়েশিয়া ও সাবাহ অঞ্চল থেকে দেশটির ৮০ শতাংশ পাম অয়েল আসে। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসব অঞ্চল থেকে সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বাড়বে।










